পৃথিবীতে বিদ্যমান পোকামাকড়ের অধিকাংশ প্রজাতিই এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত পোকামাকড়ের প্রজাতি প্রায় ১০ লাখ হলেও প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে।
সোমবার বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এতদিন পৃথিবীতে প্রায় ৬০ লাখ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও নতুন পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখের মধ্যে হতে পারে। গবেষকদের মধ্যম হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২ কোটি প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে।
গবেষণাটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত হয়েছে। এটি কোস্টারিকার গুয়ানাকাস্তে ন্যাশনাল পার্কে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি পোকামাকড় জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশেষভাবে প্যারাসিটয়েড বোলতা নিয়ে গবেষণা করা হয়, যা অন্য পোকামাকড়ের শরীরে ডিম পাড়ার জন্য পরিচিত।
গবেষকরা ফাঁদে ধরা পোকামাকড় এবং পরজীবী আক্রান্ত শুঁয়োপোকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, বিভিন্ন জরিপ পদ্ধতিতে শনাক্ত হওয়া প্রজাতির মধ্যে মিল খুবই কম। এর মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায়, বিস্তৃত নমুনা সংগ্রহের পরও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের একটি বড় অংশ এখনো অজানা রয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানগত বিশেষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকরা হিসাব করেছেন, শুধু গুয়ানাকাস্তে ন্যাশনাল পার্কেই তিন লাখের বেশি পোকামাকড়ের প্রজাতি থাকতে পারে। পরে বৃক্ষের জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে তুলনা করে বৈশ্বিক প্রজাতির সম্ভাব্য সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া একাডেমি অব সায়েন্সেসের কীটতত্ত্ব বিভাগের কিউরেটর ব্রায়ান ফিশার বলেন, বর্তমান হিসাবও পোকামাকড়ের প্রকৃত বৈচিত্র্যকে কম করে দেখাতে পারে। তবে সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষকদের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত বিভিন্ন চাপের কারণে বহু পোকামাকড়ের প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অসংখ্য প্রজাতি বিজ্ঞানীদের নথিভুক্ত হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। তাই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সূত্র: আনাদলু এজেন্সি

অনলাইন ডেস্ক 










