ঢাকা জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শামীমা পারভীন শিল্পি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি এর আগে বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই আদেশে বর্তমান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এ বদলি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনস্বার্থে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপারের পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে শামীমা পারভীনের নেতৃত্বে ঢাকা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই জেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
শামীমা পারভীন শিল্পির কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। তিনি নড়াইল জেলার বাসিন্দা এবং ২৫তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালের ২১ আগস্ট সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ২২টি দেশের নারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নারী পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে শামীমা পারভীন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুলের সহধর্মিণী। ছাত্রজীবনে তিনি সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জাবি শাখা ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিসিএস অফিসার্স ফোরামের ২০২৫-২৬ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
সামগ্রিকভাবে, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং দেশ-বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় শামীমা পারভীন শিল্পির এই নিয়োগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তার নেতৃত্বে ঢাকা জেলার আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক 





