ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বিপর্যস্ত; নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এএফপির।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

সংঘাতের জেরে অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে। এসব জাহাজে থাকা ক্রুরা দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর লক্ষ্য ও কার্যক্রম
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে প্রহরা দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। তারা আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে, এবং আমরা ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

মানবিক সহায়তা হিসেবে উদ্যোগ
ট্রাম্প এই উদ্যোগকে একটি “মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার কারণে জাহাজগুলোতে থাকা নিরীহ ক্রুরা খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরবরাহের সংকটে পড়েছেন। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুরু হচ্ছে শিগগিরই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত) থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যক্রম শুরু হবে।
হস্তক্ষেপে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি
তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র “শক্ত প্রতিক্রিয়া” দেখাবে বলেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

তার ভাষায়, “জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে হরমুজ থেকে বের করে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এতে বাধা দেয়, তাহলে আমরা কঠোরভাবে তার জবাব দেব।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়ন একদিকে যেমন বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

উপসংহার:
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা কার্যকর হয়— এখন সেটিই দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত

অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী, প্রথম দিনেই আলোচনায় থালাপতি বিজয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ বিপর্যস্ত; নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারা

হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজ উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা

আপডেট সময়: ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় রোববার (৩ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর এএফপির।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্তকারী প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

সংঘাতের জেরে অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর ফলে প্রণালি, আরব উপসাগর ও পারস্য উপসাগরে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে। এসব জাহাজে থাকা ক্রুরা দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য ও জরুরি সরবরাহ সংকটে ভুগছেন বলে জানা গেছে।

‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর লক্ষ্য ও কার্যক্রম
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো আটকা পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করা। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে প্রহরা দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজে আটকা পড়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়। তারা আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে, এবং আমরা ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

মানবিক সহায়তা হিসেবে উদ্যোগ
ট্রাম্প এই উদ্যোগকে একটি “মানবিক সহায়তা প্রচেষ্টা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার কারণে জাহাজগুলোতে থাকা নিরীহ ক্রুরা খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরবরাহের সংকটে পড়েছেন। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়িত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুরু হচ্ছে শিগগিরই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল (বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত) থেকেই হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ কার্যক্রম শুরু হবে।
হস্তক্ষেপে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি
তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র “শক্ত প্রতিক্রিয়া” দেখাবে বলেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

তার ভাষায়, “জাহাজ ও ক্রুদের নিরাপদে হরমুজ থেকে বের করে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কিন্তু কেউ যদি এতে বাধা দেয়, তাহলে আমরা কঠোরভাবে তার জবাব দেব।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে
বিশ্লেষকদের মতে, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাস্তবায়ন একদিকে যেমন বৈশ্বিক বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

উপসংহার:
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা কার্যকর হয়— এখন সেটিই দেখার বিষয়।