জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান দেশের নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেম ও সচেতনতার প্রমাণ দিলেও, ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন সদস্যদের বিরুদ্ধেও গত দেড় বছরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিচালনা করতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা নয়, প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সাহস এবং দূরদর্শী বুদ্ধিমত্তা।
বিএনপির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্ভর করে রাজনীতি করে না। বর্তমান সময়ে ‘বট বাহিনী’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রচারণার মাধ্যমে রাজনীতিকে প্রভাবিত করার প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “শুধু স্ট্যাটাস দিয়ে, মানুষকে ছোট করে, আজেবাজে মন্তব্য করে ভাইরাল হওয়া—এগুলো দিয়ে প্রকৃত রাজনীতি হয় না।” এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করেন।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ বলেন, যদি ১৯৭১ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থাকত, তাহলে দেশের স্বাধীনতা অর্জন আদৌ সম্ভব হতো কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। তার এই মন্তব্যে তিনি বোঝাতে চান যে বাস্তব সংগ্রাম ও ত্যাগের মূল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি।
তার এই বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয় এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

অনলাইন ডেস্ক 





