লালবাগ কেল্লার পাশে ইসলামবাগ ইটাওয়ালা ঘাটে পুড়েছে ২০টির বেশি কারখানা ও গুদাম
পুরান ঢাকায় আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লালবাগ কেল্লার পাশের ইসলামবাগ ইটাওয়ালা ঘাট এলাকায় প্লাস্টিক কারখানা ও গুদামে লাগা আগুনে অন্তত ২০টি কারখানা ও গুদাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একই সঙ্গে পুড়েছে ২৫ থেকে ৩০টির মতো বহুতলভাবে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ঝুপড়ি ঘর। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ
গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে ইটাওয়ালা ঘাট এলাকার স্থানীয়ভাবে ‘বরফওয়ালা বাড়ি’ নামে পরিচিত বারেকের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের হিরা ও নূর মোহাম্মদ তসলিমের প্লাস্টিক কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে একে একে আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি কারখানা ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিকাল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিনির্বাপণে আহত স্বেচ্ছাসেবক
আগুন নেভানোর সময় পারভেজ ইসলাম নামে এক স্বেচ্ছাসেবক আহত হন। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। প্লাস্টিক গুদাম, কারখানা ও ভবনের বাসিন্দারা অক্ষত রয়েছেন।
কোটি টাকার ক্ষতির দাবি
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি কারখানার মালিক মো. রুবেল বলেন, “আমার তিনতলা ভবনের নিচে কারখানা ছিল, ওপরে গুদাম ও থাকার জায়গা। সবকিছু পুড়ে শেষ।” আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মোশারফ জানান, “আমার প্রায় ১৭ লাখ টাকার প্লাস্টিকের কাঁচামাল ও কারখানা পুড়ে গেছে।”
ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো, সরু রাস্তা
সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার থানাধীন ইটাওয়ালা ঘাট এলাকাজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক কারখানা ও গুদাম গড়ে উঠেছে। টিন, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তিন থেকে চারতলা পর্যন্ত শত শত ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নিচতলায় কারখানা, ওপরে গুদাম ও বসবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এলাকার রাস্তা এতটাই সরু যে একজনের বেশি মানুষ একসঙ্গে চলাচল করতে পারে না। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তার ও ট্রান্সফরমারের পাশেই টিনে ঘেরা কক্ষে মানুষ বসবাস করছে। রাস্তায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে প্লাস্টিক দানা, পলিথিন ও পরিত্যক্ত সামগ্রী—পুরো এলাকাই যেন এক বিশাল প্লাস্টিক গুদামে পরিণত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, “এখানকার ভবনগুলো এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, কোনো নিরাপত্তা মানদণ্ডের মধ্যেই পড়ে না। ফায়ার ফাইটাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।”

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 
