রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রমে নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে। মামলাটিতে আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পাঠিয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ২ জুন দিন ধার্য করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের ফলে মামলার সাক্ষীরা পর্যায়ক্রমে আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের পক্ষ থেকে দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে গ্রহণ করেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত দিনে শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলার অভিযোগপত্র প্রস্তুতের ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এসব তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে মামলার বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হতে পারে বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে আদালত মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেবেন।
শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মামলাটির কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ওপর বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 










