ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ; এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ

ইউপি চেয়ারম্যানে স্নাতক চেয়ে হাইকোর্টের রুল

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

রুলে আদালত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটকারী আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেবল একজন জনপ্রতিনিধিই নন, তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যমান আইনে একজন চেয়ারম্যান গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে পারেন এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের নির্দিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখেন।

তিনি বলেন, একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের আগে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, স্নাতক সম্পন্ন এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অথচ একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। এটি সংবিধানের সমতা ও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং জনগণের নানামুখী সেবা নিশ্চিত করতে হয়। এসব দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সময়ের দাবি।

হাইকোর্টের এ রুলের ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে আইন সংশোধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে হাইকোর্টের এ রুল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ; এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ

ইউপি চেয়ারম্যানে স্নাতক চেয়ে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময়: ০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন) ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ না করায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।

রুলে আদালত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটকারী আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেবল একজন জনপ্রতিনিধিই নন, তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যমান আইনে একজন চেয়ারম্যান গ্রাম আদালত পরিচালনা করতে পারেন এবং তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের নির্দিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা রাখেন।

তিনি বলেন, একজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে একই ধরনের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের আগে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, স্নাতক সম্পন্ন এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অথচ একজন ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। এটি সংবিধানের সমতা ও সুশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি এবং জনগণের নানামুখী সেবা নিশ্চিত করতে হয়। এসব দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সময়ের দাবি।

✒️ আরও পড়ুন 📖  রংপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

হাইকোর্টের এ রুলের ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে আইন সংশোধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে হাইকোর্টের এ রুল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।