ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
মায়ের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জনের মধ্যেই সৎমা ও পরিবার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ঢালিউড অভিনেত্রী পপির

৩০ বছরের কষ্টের কথা জানালেন পপি

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভিন পপি। ফাইল ছবি

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকাদের অন্যতম সাদিকা পারভিন পপি। মিষ্টি হাসি, সাবলীল অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।

বর্তমানে স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি পরিবার ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে তার কিছু বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক ‘কুলি’ দিয়ে
১৯৯৬ সালে নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে পপির। অভিষেকের পরপরই নিজের অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

পরবর্তী সময়ে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পপি। তার অভিনীত বিভিন্ন সিনেমা সে সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

শুরু থেকেই মায়ের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা
পপির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিং স্পট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট আয়োজনে তার সঙ্গে মাকে প্রায়ই দেখা যেত। মেয়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে মায়ের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি পপির পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও নানা ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। তার মায়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে অভিযোগ করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

‘সৎমা কখনও আপন হয় না’
এর মধ্যেই পপি পরিবার নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যে তিনি এমন একজন নারীকে ‘সৎমা’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যার হাত ধরে তিনি চলচ্চিত্রে এসেছিলেন বলে জানান।

পপির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কষ্ট ও মানসিক আঘাত এখনও তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।

‘৩০ বছর কষ্ট করেছি’
পপি বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কষ্ট করেছেন। কিন্তু তার দাবি, পরিবারের মানুষ তার সেই কষ্ট যথাযথভাবে উপলব্ধি করেনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি নানা ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন। তার অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং উপার্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৩০ বছর কষ্ট করেছি। কখনও আমার কষ্ট তারা উপলব্ধি করেনি। আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

পপির দাবি, পরিবারের চাহিদা কখনও শেষ হয়নি। তার ভাষায়, যতই তিনি দিয়েছেন, ততই পরিবারের প্রত্যাশা বেড়েছে।

‘সৎমার সংসার থেকে যে আঘাত পেয়েছি…’
নিজের পারিবারিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে পপি আরও বলেন, সৎমায়ের সংসার থেকে পাওয়া আঘাতের প্রভাব এখনও তার জীবনে রয়ে গেছে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘সৎ মার সংসার থেকে যে পরিমাণে আঘাত পেয়েছি, সেই ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

পপির এমন বক্তব্যের পর তার ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আড়ালে তিনি কী ধরনের পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপির অবস্থান
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পপির পথচলা প্রায় তিন দশকের। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাণিজ্যিক ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা।

একসময় নিয়মিত চলচ্চিত্রে দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিজীবন ও সংসারে মনোযোগী হওয়ায় বড় পর্দায় তার উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়।

তবে চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে দর্শকের কাছে পপির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তাই তার ব্যক্তিজীবন, পরিবার কিংবা চলচ্চিত্রে ফেরার সম্ভাবনা—সবকিছুই ভক্তদের আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকে।

সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পপির আবেগঘন বক্তব্য সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পারিবারিক বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

মায়ের সঙ্গে দূরত্বের গুঞ্জনের মধ্যেই সৎমা ও পরিবার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ঢালিউড অভিনেত্রী পপির

৩০ বছরের কষ্টের কথা জানালেন পপি

আপডেট সময়: ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকাদের অন্যতম সাদিকা পারভিন পপি। মিষ্টি হাসি, সাবলীল অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে সাফল্যের পাশাপাশি নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।

বর্তমানে স্বামী-সন্তান ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের আলোচনার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি পরিবার ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে তার কিছু বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চলচ্চিত্রে অভিষেক ‘কুলি’ দিয়ে
১৯৯৬ সালে নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে পপির। অভিষেকের পরপরই নিজের অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন তিনি।

পরবর্তী সময়ে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশক ও পরবর্তী সময়ের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পপি। তার অভিনীত বিভিন্ন সিনেমা সে সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

শুরু থেকেই মায়ের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠতা
পপির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শুটিং স্পট থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট আয়োজনে তার সঙ্গে মাকে প্রায়ই দেখা যেত। মেয়ের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে মায়ের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি পপির পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও নানা ধরনের বক্তব্য সামনে এসেছে। তার মায়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মেয়েকে নিয়ে অভিযোগ করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

‘সৎমা কখনও আপন হয় না’
এর মধ্যেই পপি পরিবার নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের বক্তব্যে তিনি এমন একজন নারীকে ‘সৎমা’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যার হাত ধরে তিনি চলচ্চিত্রে এসেছিলেন বলে জানান।

পপির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কষ্ট ও মানসিক আঘাত এখনও তিনি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।

✒️ আরও পড়ুন 📖  ‘ভদ্রতার কোনো মূল্য নেই’—সোজাসাপ্টা মন্তব্যে আবারও আলোচনায় মিষ্টি জান্নাত

‘৩০ বছর কষ্ট করেছি’
পপি বলেন, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কষ্ট করেছেন। কিন্তু তার দাবি, পরিবারের মানুষ তার সেই কষ্ট যথাযথভাবে উপলব্ধি করেনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি নানা ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন। তার অভিযোগ, পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং উপার্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৩০ বছর কষ্ট করেছি। কখনও আমার কষ্ট তারা উপলব্ধি করেনি। আমাকে সবসময় টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ব্যবহার করেছে।’

পপির দাবি, পরিবারের চাহিদা কখনও শেষ হয়নি। তার ভাষায়, যতই তিনি দিয়েছেন, ততই পরিবারের প্রত্যাশা বেড়েছে।

‘সৎমার সংসার থেকে যে আঘাত পেয়েছি…’
নিজের পারিবারিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে পপি আরও বলেন, সৎমায়ের সংসার থেকে পাওয়া আঘাতের প্রভাব এখনও তার জীবনে রয়ে গেছে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘সৎ মার সংসার থেকে যে পরিমাণে আঘাত পেয়েছি, সেই ধকল এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

পপির এমন বক্তব্যের পর তার ব্যক্তিজীবন ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের আড়ালে তিনি কী ধরনের পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপির অবস্থান
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে পপির পথচলা প্রায় তিন দশকের। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাণিজ্যিক ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা।

একসময় নিয়মিত চলচ্চিত্রে দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিজীবন ও সংসারে মনোযোগী হওয়ায় বড় পর্দায় তার উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়।

তবে চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে দর্শকের কাছে পপির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। তাই তার ব্যক্তিজীবন, পরিবার কিংবা চলচ্চিত্রে ফেরার সম্ভাবনা—সবকিছুই ভক্তদের আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকে।

সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পপির আবেগঘন বক্তব্য সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পারিবারিক বিষয়টি একান্তই ব্যক্তিগত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।