ঢাকার সাভারে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে নয় যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন যুবক প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবন করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নয় যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে শুনানি শেষে ছয়জনকে ছয় মাস করে এবং অপর তিনজনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশের পর দণ্ডপ্রাপ্তদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শাহাদাত হোসেন সায়েম, সজল হোসেন মুন্না, ফজলে রাব্বি, মাসুদ হোসাইন, মিজান আহমেদ জয়, রাসেল মোল্লা, মেহেদী হাসান মুন্না, সালমানুর রহমান ও নয়ন।
পুলিশ জানায়, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক সেবন, বিক্রি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড একটি ব্যস্ত এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল রয়েছে। এমন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুত্বপূর্ণ বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না। মাদকের সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



