ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে।
বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় এবং শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাভার মডেল থানাধীন আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি (উত্তর)–এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন ইউনিক এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)। এ সময় মোঃ আল-আমিন মুন্সি (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আল-আমিন মুন্সি মাগুরার শ্রীপুর থানার রাজধরপুর এলাকার মোঃ দেলোয়ারের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আমির হামজার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে সাভার মডেল থানাধীন আমিনবাজারের বড়দেশী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি। এ সময় মোঃ সায়েম মোল্লা (৪৮) ও তার স্ত্রী মোসাঃ শাহিনা আক্তার (৪০)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। সায়েম মোল্লা বড়দেশী মধ্যপাড়া এলাকার রাশেদ মোল্লার ছেলে। তার স্ত্রী শাহিনা আক্তারও একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
ঢাকা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া সায়েম মোল্লার বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে তাদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) জানিয়েছে, পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
নোট: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার বিষয়; আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 




