ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তর। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় এসব ইয়াবা উদ্ধার ও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) সূত্রে জানা গেছে, ডিবি উত্তর-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে সাভার মডেল থানাধীন ব্যাংক কলোনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ডিবি উত্তর-এর এসআই শেখ মফিজুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
এ সময় ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সানোয়ার হোসেন (৪২) ও আমিনুল ইসলাম (৪৩)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সানোয়ার হোসেন মানিকগঞ্জ সদর থানার কালীনগর এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার মডেল থানাধীন মজিদপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
অপর গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম সাভার মডেল থানাধীন গেন্ডা এলাকার সি-৩৮/২ নম্বর বাসার বাসিন্দা।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫০ পিস ইয়াবার ওজন প্রায় ৫ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরদিকে, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন বলিভদ্র এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ডিবি উত্তর।
এসআই শেখ মাসুদ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ১৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সিয়াম হোসেন (২৬), ইমতিয়াজ শেখ শান্ত (২৯) ও মো. মেহেদী হাসান হিরু (৫২)।
পুলিশ জানায়, সিয়াম হোসেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুর থানার শুভগাছা এলাকার ছানোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন।
ইমতিয়াজ শেখ শান্ত জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার রঘুনাথপুর এলাকার মৃত মাহবুবুর রহমানের ছেলে। তিনিও আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
অপর গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান হিরু আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ১৭০ পিস ইয়াবার ওজন প্রায় ১৭ গ্রাম। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫১ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে মো. মেহেদী হাসান হিরুর বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে।
তবে ওই মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক দুই অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 



