দেশে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম।
নতুন আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
তথ্যের সংজ্ঞা বিস্তৃত
সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘তথ্য’ শব্দের সংজ্ঞা আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে শুধু লিখিত নথি নয়, বরং—
- কর্তৃপক্ষের গঠন ও কাঠামো সংক্রান্ত দলিল।
- দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের স্মারক।
- মানচিত্র।
- চুক্তিপত্র।
- অডিও ও ভিডিও রেকর্ড।
*:ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কম্পিউটারে প্রস্তুতকৃত উপাত্ত—সবই তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে—দাপ্তরিক ‘নোট শিট’ বা নোট শিটের প্রতিলিপি তথ্যের আওতার বাইরে থাকবে।
স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক
অধ্যাদেশে সরকারি ও বেসরকারি কর্তৃপক্ষের জন্য তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি কর্তৃপক্ষকে নাগরিকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে—
- গৃহীত সিদ্ধান্ত।
- অডিট প্রতিবেদন।
- ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য।
- সম্পাদিত ও প্রস্তাবিত কার্যক্রমের বিবরণ।
গুরুত্বপূর্ণ নীতি বা সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনমত যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা এবং কার্যবিবরণী ব্যাখ্যা করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সব প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
শাস্তির মাত্রা বাড়ল
তথ্য অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। আইনের ধারা ২৭ সংশোধন করে—
- দৈনিক জরিমানা: ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা।
- সর্বোচ্চ জরিমানা: ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় তথ্য ভান্ডার গঠন
নাগরিকরা যাতে দ্রুত ও বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন, সে জন্য তথ্য কমিশন প্রবিধান প্রণয়ন করে একটি কেন্দ্রীয় ‘তথ্য ভান্ডার’ (ডাটাবেজ) তৈরি করবে। এই ভান্ডারে বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য একত্রে সংরক্ষণ ও উন্মুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
স্বচ্ছতা বৃদ্ধির আশা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্য গোপন করার প্রবণতা কমবে এবং নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নীতি নির্ধারণে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে।
নতুন এই অধ্যাদেশকে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার বাস্তবায়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট

অনলাইন ডেস্ক 





