ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাধারণ বৃত্তি অর্জন করে সাভারের মুখ উজ্জ্বল করল শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাদ হেরোইন, ইয়াবা ও গাঁজাসহ তিনজন গ্রেপ্তার অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, উচ্ছ্বসিত মেসি মাদক ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি আমানের ৪ বছর পর মুখ খুললেন পরীমনি: ‘আমার হারানো সম্মান কি রাষ্ট্র ফিরিয়ে দেবে?’ বিশ্বকাপের নায়ক ভোজিনিয়ার নামে নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর নামকরণ আশুলিয়া-সাভারে ডিবির বিশেষ অভিযান, ৭ মাদক ব্যবসায়ী আটক ৩০ লিটার চোলাইমদ ও ৪০ ইয়াবাসহ ৫ জন আটক আশুলিয়ায় দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার বিচ্ছেদের পর নতুন জীবনের ইঙ্গিত? সামান্থা রুথ প্রভুর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা
গুনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভে ইস্তিগফারের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।

আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি: অর্থ, ফজিলত ও আমলের নিয়ম

ইসলামে তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তাই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বারবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মুসলমানদের মুখে বহুল প্রচলিত একটি ইস্তিগফার হলো— “আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি।”

ইস্তিগফারের আরবি

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

বাংলা উচ্চারণ

আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ (যাম্বিন) ওয়া আতূবু ইলাইহি।

বাংলা অর্থ

“আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর কাছে আমার সকল গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করে ফিরে আসছি।”

ইস্তিগফারের গুরুত্ব

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—

“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”
সূরা নূহ: ১০

আরও ইরশাদ হয়েছে—

“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
সূরা আন-নূর: ৩১

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করতেন। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি দিনে ৭০ বারেরও বেশি, অন্য বর্ণনায় ১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

ইস্তিগফারের ফজিলত

  • আল্লাহ তাআলা গুনাহ ক্ষমা করেন।
  • অন্তরে প্রশান্তি ও মানসিক শান্তি আসে।
  • রিজিকে বরকত ও জীবনে কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
  • বিপদ-আপদ ও সংকট থেকে মুক্তির আশা করা যায়।
  • আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম এটি।

কীভাবে আমল করবেন?

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পড়া উত্তম।
  • ফজর ও মাগরিবের পর নিয়মিত পড়তে পারেন।
  • প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আন্তরিক অনুতাপ, গুনাহ পরিত্যাগের দৃঢ় সংকল্প এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে পড়ুন।
  • তাহাজ্জুদের সময়, দোয়ার আগে বা পরে এবং দিনের যেকোনো সময় এটি পড়া যায়।

উপসংহার

ইস্তিগফার একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য আমল। “আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি” নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত ও বরকত লাভের আশা করা যায়। তাই আসুন, প্রতিদিনের জীবনে ইস্তিগফারকে অভ্যাসে পরিণত করি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।

সর্বাধিক পঠিত

সাধারণ বৃত্তি অর্জন করে সাভারের মুখ উজ্জ্বল করল শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাদ

গুনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভে ইস্তিগফারের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।

আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি: অর্থ, ফজিলত ও আমলের নিয়ম

আপডেট সময়: ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ইসলামে তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। তাই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাদের বারবার তাঁর কাছে ফিরে আসতে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে ইস্তিগফারের অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। মুসলমানদের মুখে বহুল প্রচলিত একটি ইস্তিগফার হলো— “আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি।”

ইস্তিগফারের আরবি

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي مِنْ كُلِّ ذَنْبٍ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

বাংলা উচ্চারণ

আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ (যাম্বিন) ওয়া আতূবু ইলাইহি।

বাংলা অর্থ

“আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর কাছে আমার সকল গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছেই তওবা করে ফিরে আসছি।”

ইস্তিগফারের গুরুত্ব

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন—

“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”
সূরা নূহ: ১০

আরও ইরশাদ হয়েছে—

“হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।”
সূরা আন-নূর: ৩১

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করতেন। সহিহ হাদিসে এসেছে, তিনি দিনে ৭০ বারেরও বেশি, অন্য বর্ণনায় ১০০ বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

ইস্তিগফারের ফজিলত

  • আল্লাহ তাআলা গুনাহ ক্ষমা করেন।
  • অন্তরে প্রশান্তি ও মানসিক শান্তি আসে।
  • রিজিকে বরকত ও জীবনে কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।
  • বিপদ-আপদ ও সংকট থেকে মুক্তির আশা করা যায়।
  • আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম এটি।

কীভাবে আমল করবেন?

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর পড়া উত্তম।
  • ফজর ও মাগরিবের পর নিয়মিত পড়তে পারেন।
  • প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ইস্তিগফার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • আন্তরিক অনুতাপ, গুনাহ পরিত্যাগের দৃঢ় সংকল্প এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে পড়ুন।
  • তাহাজ্জুদের সময়, দোয়ার আগে বা পরে এবং দিনের যেকোনো সময় এটি পড়া যায়।
✒️ আরও পড়ুন 📖  সাভারে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ ডাকাত গ্রেফতার, উদ্ধার চাপাতি ও ছুরি

উপসংহার

ইস্তিগফার একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য আমল। “আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতূবু ইলাইহি” নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত ও বরকত লাভের আশা করা যায়। তাই আসুন, প্রতিদিনের জীবনে ইস্তিগফারকে অভ্যাসে পরিণত করি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি।