আল্লাহ তাআলা পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। তাঁর বান্দারা আন্তরিকভাবে তাওবা ও ইস্তিগফার করলে তিনি তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। ইসলামে আল্লাহর ক্ষমা লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তিগফার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে বারবার ইস্তিগফারের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো, “আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” মানুষের জীবনে ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ হওয়া স্বাভাবিক। তাই প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের রবের কাছে তাওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করো।” তিনি নিজেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করতেন। (সহিহ বুখারি, নাসাঈ)
ফরজ নামাজের পর ইস্তিগফার
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর তিনবার “أستغفر الله” (আস্তাগফিরুল্লাহ) পাঠ করতেন।
এ ছাড়া তিনি প্রায়ই এই দোয়া পড়তেন—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছেই তাওবা করে ফিরে আসি। (আবু দাউদ)
হাদিসে এসেছে, এভাবে আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
প্রতিদিন পড়ার আরেকটি ইস্তিগফার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বারের বেশি এই ইস্তিগফার করতেন। (সহিহ বুখারি)
সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার
হাদিসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া হিসেবে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার-এর কথা উল্লেখ রয়েছে।
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ…
এই দোয়া সকালে ও সন্ধ্যায় পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে পড়ে সন্ধ্যার আগে মারা যায় অথবা সন্ধ্যায় পড়ে সকালে মারা যায়, সে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সহিহ বুখারি)
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহিম।
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহা তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পাঠ করেছেন। (আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
ইস্তিগফারের ফজিলত
ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন, দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সর্বদা ইস্তিগফার করতে থাকে, আল্লাহ তার প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (আবু দাউদ)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো বান্দা গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ বলেন, “আমার বান্দা জেনেছে, তার এমন একজন রব আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
এ ছাড়া হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে আমার বান্দারা! তোমরা দিন-রাতে গুনাহ করে থাকো, আর আমিই সব গুনাহ ক্ষমা করি। তাই তোমরা আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দেব।” (সহিহ মুসলিম)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিন বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তিগফার করা। কারণ ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যমই নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল।

অনলাইন ডেস্ক 










