ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
আলমরথ রাইটের আবিষ্কার থেকে আধুনিক টিসিভি পর্যন্ত— টাইফয়েড প্রতিরোধে বিজ্ঞান ও মানবতার এক দীর্ঘ অভিযান

১২৯ বছরের বিজ্ঞানজয়: টাইফয়েড টিকা

ইউরোপ ও আমেরিকায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এক ভয়ংকর ব্যাধি- টাইফয়েড জ্বর। বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে এ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। কিন্তু এই রোগের প্রতিষেধক উদ্ভাবন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ— যা অতিক্রম করেছিলেন কয়েকজন সাহসী বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা ও ত্যাগের ফলেই ১২৯ বছর আগে জন্ম নেয় টাইফয়েড টিকা, যা আজ বিশ্বজুড়ে আশীর্বাদস্বরূপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

টাইফয়েড জ্বর: কারণ ও উপসর্গ >
‘সালমোনেলা টাইফি’ নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়াই টাইফয়েড জ্বরের মূল কারণ। এটি সাধারণত দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটব্যথা, এমনকি অন্ত্র ফেটে যাওয়া— ছিল এ রোগের সাধারণ উপসর্গ। তখনকার ইউরোপে চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল দুর্বল, ফলে টাইফয়েড দ্রুতই মহামারিতে রূপ নেয়।

টিকার ইতিহাস: প্রথম সাফল্য >
১৮৮০ সালে জার্মান চিকিৎসক কার্ল জোসেফ এবের্থ প্রথমবারের মতো টাইফয়েডের জীবাণু শনাক্ত করেন। এরপর ১৮৮৪ সালে সহকর্মী জর্জ গ্যাফকি সফলভাবে ব্যাকটেরিয়াটি পৃথক ও পরীক্ষাগারে চাষ করতে সক্ষম হন— যা ভবিষ্যৎ প্রতিষেধকের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক আলমরথ অ্যাডওয়ার্ড রাইট প্রথম কার্যকর টাইফয়েড টিকা তৈরি করেন। তিনি মৃত ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে তৈরি করেন একটি কিলড ভ্যাকসিন, যা শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এই টিকা প্রথম ব্যবহৃত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বোর যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে, এবং এতে টাইফয়েডে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রাইটের এই সাফল্য টিকা প্রযুক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করে।

মুখে খাওয়ার টিকা: টিওয়াই২১এ >
১৯৭০ সালে সুইস ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা তৈরি করেন ‘টিওয়াই২১এ’, যা ছিল দুর্বল ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক মুখে খাওয়ার টিকা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। পরে বারনা বায়োটেক টিকাটি বাজারজাত করে।

ইনজেকশন টিকা: ভি পলিস্যাকারাইড >
১৯৮০–১৯৯০ সালের মধ্যে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের গবেষক দল তৈরি করে ‘ভি ক্যাপসুলার অ্যান্টিজেন’ ভিত্তিক আধুনিক ইনজেকশন টিকা। এটি শরীরে ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয় এবং দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। ১৯৯৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টিকাটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।

আধুনিক যুগের টিকা: টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) >
টাইফয়েড টিকার সর্বশেষ ধাপ হলো টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)। ভারতের ভারত বায়োটেক আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় তৈরি করে টাইপবার-টিসিভি, যা ২০১৮ সালে ডব্লিউএইচও প্রাক-যোগ্যতা দেয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে ভারতের আরেক সংস্থা বায়োলজিক্যাল-ই তৈরি করে টাইফিবেভ টিসিভি, যা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী টাইফয়েডের বিরুদ্ধেও কার্যকর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখন এটি ব্যবহার হচ্ছে।

টাইফয়েড টিকার উপকারিতা >
রোগপ্রতিরোধ তৈরি করে: সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

জটিলতা প্রতিরোধ করে: অন্ত্র ফেটে যাওয়া, রক্তদূষণ বা দুর্বলতার ঝুঁকি হ্রাস করে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখে: বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি রয়েছে এমন এলাকায় টিকাদান সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়।
শিশু ও ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা দেয়: দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় টাইফয়েডপ্রবণ এলাকায় টিকা ঝুঁকি কমায়।
দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা: ভি টিকা দুই–তিন বছর, আর টিসিভি পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় সুরক্ষা দেয়।

বাংলাদেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি >
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যান, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির মাধ্যমে টিসিভি টিকা পেয়েছে। এক ডোজ ইনজেকটেবল এই টিকা শিশুদের তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিসিভি কোনো পরীক্ষামূলক টিকা নয়; এটি ২০২০ সাল থেকেই ডব্লিউএইচও–স্বীকৃত, নিরাপদ ও কার্যকর। পাকিস্তান (২০১৯) ও নেপাল (২০২২)–সহ আটটি দেশে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, “টাইফয়েড জীবাণু এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। তাই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।”

টিকা কার্যক্রমে রেকর্ড অংশগ্রহণ >
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনেই ৩২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর টিকা নিয়েছে। কর্মসূচির লক্ষ্য ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশু-কিশোরকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া।

এই টিকা ভারতের বায়োলজিক্যাল-ই কোম্পানি উৎপাদন করেছে এবং এর পেটেন্ট রয়েছে ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি জিএসকের হাতে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারে বলা হচ্ছে— “টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যাচাই করা এবং সৌদি হালাল সেন্টার কর্তৃক হালাল সনদপ্রাপ্ত।”

উপসংহার >
টাইফয়েড টিকার উদ্ভাবন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্য নয়, মানবসভ্যতার জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। আলমরথ রাইটের শুরু করা যাত্রা আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে— মানবজীবনকে করেছে আরও নিরাপদ, আরও সুরক্ষিত।

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

আলমরথ রাইটের আবিষ্কার থেকে আধুনিক টিসিভি পর্যন্ত— টাইফয়েড প্রতিরোধে বিজ্ঞান ও মানবতার এক দীর্ঘ অভিযান

১২৯ বছরের বিজ্ঞানজয়: টাইফয়েড টিকা

আপডেট সময়: ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

ইউরোপ ও আমেরিকায় উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এক ভয়ংকর ব্যাধি- টাইফয়েড জ্বর। বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে এ রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। কিন্তু এই রোগের প্রতিষেধক উদ্ভাবন চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ— যা অতিক্রম করেছিলেন কয়েকজন সাহসী বিজ্ঞানী। তাদের গবেষণা ও ত্যাগের ফলেই ১২৯ বছর আগে জন্ম নেয় টাইফয়েড টিকা, যা আজ বিশ্বজুড়ে আশীর্বাদস্বরূপ ব্যবহৃত হচ্ছে।

টাইফয়েড জ্বর: কারণ ও উপসর্গ >
‘সালমোনেলা টাইফি’ নামের একধরনের ব্যাকটেরিয়াই টাইফয়েড জ্বরের মূল কারণ। এটি সাধারণত দূষিত পানি বা খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটব্যথা, এমনকি অন্ত্র ফেটে যাওয়া— ছিল এ রোগের সাধারণ উপসর্গ। তখনকার ইউরোপে চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল দুর্বল, ফলে টাইফয়েড দ্রুতই মহামারিতে রূপ নেয়।

টিকার ইতিহাস: প্রথম সাফল্য >
১৮৮০ সালে জার্মান চিকিৎসক কার্ল জোসেফ এবের্থ প্রথমবারের মতো টাইফয়েডের জীবাণু শনাক্ত করেন। এরপর ১৮৮৪ সালে সহকর্মী জর্জ গ্যাফকি সফলভাবে ব্যাকটেরিয়াটি পৃথক ও পরীক্ষাগারে চাষ করতে সক্ষম হন— যা ভবিষ্যৎ প্রতিষেধকের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।

১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক আলমরথ অ্যাডওয়ার্ড রাইট প্রথম কার্যকর টাইফয়েড টিকা তৈরি করেন। তিনি মৃত ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে তৈরি করেন একটি কিলড ভ্যাকসিন, যা শরীরে ইনজেকশন দেওয়ার পর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এই টিকা প্রথম ব্যবহৃত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বোর যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনাদের মধ্যে, এবং এতে টাইফয়েডে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। রাইটের এই সাফল্য টিকা প্রযুক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করে।

মুখে খাওয়ার টিকা: টিওয়াই২১এ >
১৯৭০ সালে সুইস ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা তৈরি করেন ‘টিওয়াই২১এ’, যা ছিল দুর্বল ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক মুখে খাওয়ার টিকা। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। পরে বারনা বায়োটেক টিকাটি বাজারজাত করে।

ইনজেকশন টিকা: ভি পলিস্যাকারাইড >
১৯৮০–১৯৯০ সালের মধ্যে জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের গবেষক দল তৈরি করে ‘ভি ক্যাপসুলার অ্যান্টিজেন’ ভিত্তিক আধুনিক ইনজেকশন টিকা। এটি শরীরে ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয় এবং দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। ১৯৯৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টিকাটি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়।

আধুনিক যুগের টিকা: টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) >
টাইফয়েড টিকার সর্বশেষ ধাপ হলো টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)। ভারতের ভারত বায়োটেক আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তায় তৈরি করে টাইপবার-টিসিভি, যা ২০১৮ সালে ডব্লিউএইচও প্রাক-যোগ্যতা দেয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালে ভারতের আরেক সংস্থা বায়োলজিক্যাল-ই তৈরি করে টাইফিবেভ টিসিভি, যা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী টাইফয়েডের বিরুদ্ধেও কার্যকর। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এখন এটি ব্যবহার হচ্ছে।

টাইফয়েড টিকার উপকারিতা >
রোগপ্রতিরোধ তৈরি করে: সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

জটিলতা প্রতিরোধ করে: অন্ত্র ফেটে যাওয়া, রক্তদূষণ বা দুর্বলতার ঝুঁকি হ্রাস করে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখে: বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ঘাটতি রয়েছে এমন এলাকায় টিকাদান সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেয়।
শিশু ও ভ্রমণকারীদের সুরক্ষা দেয়: দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় টাইফয়েডপ্রবণ এলাকায় টিকা ঝুঁকি কমায়।
দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা: ভি টিকা দুই–তিন বছর, আর টিসিভি পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় সুরক্ষা দেয়।

বাংলাদেশে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি >
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যান, যাদের ৬৮ শতাংশই শিশু।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির মাধ্যমে টিসিভি টিকা পেয়েছে। এক ডোজ ইনজেকটেবল এই টিকা শিশুদের তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিসিভি কোনো পরীক্ষামূলক টিকা নয়; এটি ২০২০ সাল থেকেই ডব্লিউএইচও–স্বীকৃত, নিরাপদ ও কার্যকর। পাকিস্তান (২০১৯) ও নেপাল (২০২২)–সহ আটটি দেশে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, “টাইফয়েড জীবাণু এখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। তাই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।”

টিকা কার্যক্রমে রেকর্ড অংশগ্রহণ >
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনেই ৩২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর টিকা নিয়েছে। কর্মসূচির লক্ষ্য ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশু-কিশোরকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া।

এই টিকা ভারতের বায়োলজিক্যাল-ই কোম্পানি উৎপাদন করেছে এবং এর পেটেন্ট রয়েছে ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানি জিএসকের হাতে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারে বলা হচ্ছে— “টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যাচাই করা এবং সৌদি হালাল সেন্টার কর্তৃক হালাল সনদপ্রাপ্ত।”

উপসংহার >
টাইফয়েড টিকার উদ্ভাবন শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্য নয়, মানবসভ্যতার জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। আলমরথ রাইটের শুরু করা যাত্রা আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে— মানবজীবনকে করেছে আরও নিরাপদ, আরও সুরক্ষিত।