আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ। ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত এবং তা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে মস্কো ভূমিকা রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওভাল অফিসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পুতিন সরাসরি তাকে এই সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় রাশিয়ার এমন উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) সহায়তা করতে চান। কিন্তু আমি বলেছি, আমাকে সহায়তা করার আগে আপনার নিজের যুদ্ধ শেষ করতে হবে।’
ট্রাম্প আরও জানান, পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান সংকটে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
এর আগে দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে দ্রুত কোনো সমাধান আসতে পারে।
অন্যদিকে, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ফোনালাপে শুধু ইউক্রেন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছেন।
ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী মাসে ইউক্রেনে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—এই তিনটি ইস্যু বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তবে ট্রাম্পের শর্ত স্পষ্ট—প্রথমে ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান, তারপর অন্য কোনো ইস্যুতে সহযোগিতা। সূত্র: সিএনএন ও আল জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক 




