চলমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজের সীমিত ভূমিকা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। তবে ব্যক্তিগত হতাশাকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটির আগে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমার খেলতে না পারায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি নন, তবে দলের পরিবেশে তার ইতিবাচক উপস্থিতি এবং নেতৃত্ব অন্যদের অনুপ্রাণিত করছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদপত্র ফোলহা দে সাও পাওলো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, “নেইমার মোটেই সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু সে শান্ত আছে এবং অনুশীলনেও দারুণ মনোযোগী। সতীর্থদের কাছে সে অত্যন্ত শ্রদ্ধার একজন খেলোয়াড়। সবাই তাকে ভালোবাসে। দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তার প্রভাব অনেক বেশি। ব্যক্তি হিসেবেও সে অসাধারণ। তাকে দলে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। অবশ্যই প্রতিটি ম্যাচেই সে খেলতে চায়।”
ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে শেষ ১৪ মিনিট বদলি হিসেবে খেলেছিলেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।
ডান পায়ের কাফ পেশির ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ায় শুরু থেকেই তার ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। যদিও সাম্প্রতিক অনুশীলনে নেইমার নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি এখন পূর্ণ সময় খেলার মতো অবস্থায় আছেন।
তবে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না তিনি। তার ভাষায়, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেইমার এখন খেলতে প্রস্তুত। কিন্তু সে কতক্ষণ সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স দিতে পারবে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করার মতো অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। দলের যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই আমি তাকে মাঠে নামাব।”
নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের চারটি পূর্ববর্তী সাক্ষাতে একবারও জয় পায়নি সেলেসাওরা। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে নরওয়ে।
এছাড়া ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয়ান দলের বিপক্ষে জয় না পাওয়ার হতাশাজনক রেকর্ডও রয়েছে ব্রাজিলের। ফলে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ পাচ্ছে আনচেলত্তির দল।
নরওয়েকে কঠিন প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে ব্রাজিল কোচ বলেন, “নরওয়ের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। তারা রক্ষণভাগে অত্যন্ত সংগঠিত একটি দল। তবে আমরা ভালো একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। হয়তো আমরা গোল হজম করতে পারি, কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেটাও আমাদের জানা আছে।”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ব্রাজিলের জন্য ম্যাচটি যেমন মর্যাদার, তেমনি নেইমারের জন্যও হতে পারে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার বড় মঞ্চ। শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তি তাকে কতটা সময় মাঠে রাখেন, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

স্পোর্টস ডেস্ক 










