ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
সিসিটিভি ফুটেজে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, ঢাকায় আনা হচ্ছে অভিযুক্তকে

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড, মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেফতার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলোচিত মা ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পুলিশ জানায়, নিহতদের বাসায় কর্মরত গৃহকর্মী আয়েশাকে বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে নলছিটি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেখানে তার দাদা শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী কমিশনারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ওসমান মাসুম ও এসআই খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে গত সোমবার ৮ ডিসেম্বর সকালে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় নিহত লায়লা আফরোজের (৪৮) স্বামী এবং পেশায় শিক্ষক এ জে এম আজিজুল ইসলাম কর্মস্থলে ছিলেন।

নিহতরা হলেন—লায়লা আফরোজ (৪৮), নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫), নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং তার মেয়ে নাফিসার দেহে অন্তত ৬টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন মাত্র চার দিন আগে বাসায় কাজে যোগ দেওয়া গৃহকর্মী আয়েশা। পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়— অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যান।

ঘটনার নৃশংসতা দেখে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডটি হয় অতিরিক্ত ক্ষোভ থেকে সংঘটিত হয়েছে অথবা এতে ‘প্রশিক্ষিত কিলারের’ মতো আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ভয়াবহ ও নির্মম সুরতহাল তারা দেখেননি। বর্তমানে আসামিকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করবে পুলিশ।

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সিসিটিভি ফুটেজে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, ঢাকায় আনা হচ্ছে অভিযুক্তকে

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ড, মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেফতার

আপডেট সময়: ০১:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলোচিত মা ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

পুলিশ জানায়, নিহতদের বাসায় কর্মরত গৃহকর্মী আয়েশাকে বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে নলছিটি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সেখানে তার দাদা শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী কমিশনারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ওসমান মাসুম ও এসআই খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে গত সোমবার ৮ ডিসেম্বর সকালে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় নিহত লায়লা আফরোজের (৪৮) স্বামী এবং পেশায় শিক্ষক এ জে এম আজিজুল ইসলাম কর্মস্থলে ছিলেন।

নিহতরা হলেন—লায়লা আফরোজ (৪৮), নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫), নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং তার মেয়ে নাফিসার দেহে অন্তত ৬টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকেই প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন মাত্র চার দিন আগে বাসায় কাজে যোগ দেওয়া গৃহকর্মী আয়েশা। পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়— অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যান।

ঘটনার নৃশংসতা দেখে পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডটি হয় অতিরিক্ত ক্ষোভ থেকে সংঘটিত হয়েছে অথবা এতে ‘প্রশিক্ষিত কিলারের’ মতো আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ভয়াবহ ও নির্মম সুরতহাল তারা দেখেননি। বর্তমানে আসামিকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার পেছনের মূল কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করবে পুলিশ।