ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তেতো স্বাদে অনীহা থাকলেও বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় করলার রসের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হতে পারে

করলার রস এমন একটি পানীয়, যা তীব্র তেতো স্বাদের কারণে অনেকেই এড়িয়ে চলেন। তবে বহুদিন ধরেই এটি ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘দ্রুত ফল’-এর মতো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন চোখে পড়ে না, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিললে এটি ধীরে ধীরে শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত করলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে—

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
করলার রসের অন্যতম বড় গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। এতে থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর শর্করা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে
করলার রস হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা খাবার হজমকে সহজ করে তোলে। এর তেতো স্বাদ পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে সংবেদনশীলদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত করলার রস পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে একে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস
করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়।

হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষা করে
প্রতিদিন করলার রস পান করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে সহায়তা করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে করলার রস নিয়মিত পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডিবির পৃথক অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ৩

তেতো স্বাদে অনীহা থাকলেও বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষায় করলার রসের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য

প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো হতে পারে

আপডেট সময়: ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

করলার রস এমন একটি পানীয়, যা তীব্র তেতো স্বাদের কারণে অনেকেই এড়িয়ে চলেন। তবে বহুদিন ধরেই এটি ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত, বিশেষ করে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ‘দ্রুত ফল’-এর মতো তাৎক্ষণিক পরিবর্তন চোখে পড়ে না, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে মিললে এটি ধীরে ধীরে শরীরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত করলার রস পান করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে—

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
করলার রসের অন্যতম বড় গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা। এতে থাকা চ্যারান্টিন ও পলিপেপটাইড-পি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে শরীর শর্করা আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে
করলার রস হজম এনজাইম সক্রিয় করতে সাহায্য করে, যা খাবার হজমকে সহজ করে তোলে। এর তেতো স্বাদ পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে সংবেদনশীলদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত করলার রস পেট ভরার অনুভূতি দেয়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে একে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস
করলায় রয়েছে ভিটামিন সি ও বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত করলার রস পান করলে কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়।

হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষা করে
প্রতিদিন করলার রস পান করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি এটি প্রদাহ কমাতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে সহায়তা করে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।

তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে করলার রস নিয়মিত পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।