ঢাকা , বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর বিশেষ অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ৮ জন গ্রেফতার দাউদকান্দিতে চালবোঝাই ট্রাক খাদে: ৭ নিহত, আহত ৬ রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ: ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানে প্রভাতের সূচনা পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিবি অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ইয়াবা ও চোলাইমদসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঢাকা জেলায় ডিবি (উত্তর)-এর বিশেষ অভিযান: জাল টাকা ও হেরোইনসহ দুইজন গ্রেফতার
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস

গণঅভ্যুত্থানের পর বাজারে স্বস্তির হাওয়া

  • বাসস
  • আপডেট সময়: ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • 149

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে। পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ডাল, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ অন্তত ২০টি নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানের আগে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখের খুচরা বাজারদরের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের আগে আলুর খুচরা দাম ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা। বর্তমানে তা ৫৮ শতাংশ কমে কেজি প্রতি ২৫ টাকায় নেমে এসেছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম আগে ছিল কেজি প্রতি ১২০ টাকা, যা এ বছর ১২ শতাংশ কমে ১০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৭৫ টাকা।

দেশি রসুনের দাম আগে ছিল কেজি প্রতি ২২০ টাকা। বর্তমানে তা ৪৫ শতাংশ কমে ১২০ টাকা হয়েছে। চায়না রসুনের দামও ২২০ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে ১৭০ টাকায় নেমেছে।

ডালের বাজারেও এসেছে স্বস্তি। মোটা জাতের মসুরি ডালের দাম ১১০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০০ টাকা। মোটা মুগডালের দাম ১৫০ টাকা থেকে ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকায়। খেসারি ডাল ১২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০৫ টাকা এবং মাশকলাই ডাল ২০০ টাকা থেকে ২০ শতাংশ কমে ১৮০ টাকা হয়েছে। ছোলার দামও কেজি প্রতি ১২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০৫ টাকা।

চিনির বাজারেও হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। খোলা চিনির দাম ১৩৫ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে বর্তমানে ১০৫ টাকা।

মসলাজাত পণ্যের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আমদানীকৃত আদার দাম ৩০০ টাকা থেকে ৪০ শতাংশ কমে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুকনা মরিচের দাম ৩৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৫০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম ১৮০ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে বর্তমানে ১৪০ টাকা।

সবজির বাজারেও এসেছে স্বস্তি। টমেটোর দাম ১৬০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২০ টাকা। গাজরের দাম ১০০ টাকা থেকে ৪০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়।

প্রাণিজ আমিষের ক্ষেত্রেও দামের নিম্নগতি দেখা গেছে। দেশি মুরগির কেজি প্রতি দাম ৬০০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা। ডিমের পিস প্রতি দাম ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে বর্তমানে ১০ টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদক গত দুই দিন রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাতিরপুল কাঁচা বাজারে কথা হয় অ্যাডভোকেট সোহেল রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক সময় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বিগত সময়ে সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর স্বল্প পরিসরে হলেও সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমবে।

এদিকে পলাশী বাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে আফসারা বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসনে জনগণের প্রয়োজনকে কখনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সে কারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আমাদের নাগালের বাইরে ছিল। কাঁচা মরিচের মতো একটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একসময় কেজি দেড় হাজার টাকাও ছাড়িয়েছিল। সরকারের সদিচ্ছা থাকায় এখন অনেক পণ্যের দাম কমেছে।”

সর্বাধিক পঠিত

আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস

গণঅভ্যুত্থানের পর বাজারে স্বস্তির হাওয়া

আপডেট সময়: ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইছে। পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ডাল, সবজি, মুরগি ও ডিমসহ অন্তত ২০টি নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণঅভ্যুত্থানের আগে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখের খুচরা বাজারদরের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের আগে আলুর খুচরা দাম ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা। বর্তমানে তা ৫৮ শতাংশ কমে কেজি প্রতি ২৫ টাকায় নেমে এসেছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম আগে ছিল কেজি প্রতি ১২০ টাকা, যা এ বছর ১২ শতাংশ কমে ১০৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৭৫ টাকা।

দেশি রসুনের দাম আগে ছিল কেজি প্রতি ২২০ টাকা। বর্তমানে তা ৪৫ শতাংশ কমে ১২০ টাকা হয়েছে। চায়না রসুনের দামও ২২০ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে ১৭০ টাকায় নেমেছে।

ডালের বাজারেও এসেছে স্বস্তি। মোটা জাতের মসুরি ডালের দাম ১১০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০০ টাকা। মোটা মুগডালের দাম ১৫০ টাকা থেকে ২৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১৫ টাকায়। খেসারি ডাল ১২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০৫ টাকা এবং মাশকলাই ডাল ২০০ টাকা থেকে ২০ শতাংশ কমে ১৮০ টাকা হয়েছে। ছোলার দামও কেজি প্রতি ১২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০৫ টাকা।

চিনির বাজারেও হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। খোলা চিনির দাম ১৩৫ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে বর্তমানে ১০৫ টাকা।

মসলাজাত পণ্যের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আমদানীকৃত আদার দাম ৩০০ টাকা থেকে ৪০ শতাংশ কমে ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুকনা মরিচের দাম ৩৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৫০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম ১৮০ টাকা থেকে ২২ শতাংশ কমে বর্তমানে ১৪০ টাকা।

সবজির বাজারেও এসেছে স্বস্তি। টমেটোর দাম ১৬০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২০ টাকা। গাজরের দাম ১০০ টাকা থেকে ৪০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়।

প্রাণিজ আমিষের ক্ষেত্রেও দামের নিম্নগতি দেখা গেছে। দেশি মুরগির কেজি প্রতি দাম ৬০০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫৮০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা। ডিমের পিস প্রতি দাম ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে বর্তমানে ১০ টাকা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদক গত দুই দিন রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

হাতিরপুল কাঁচা বাজারে কথা হয় অ্যাডভোকেট সোহেল রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক সময় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বিগত সময়ে সিন্ডিকেট নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর স্বল্প পরিসরে হলেও সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমবে।

এদিকে পলাশী বাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে আফসারা বলেন, “ফ্যাসিস্ট শাসনে জনগণের প্রয়োজনকে কখনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সে কারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আমাদের নাগালের বাইরে ছিল। কাঁচা মরিচের মতো একটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একসময় কেজি দেড় হাজার টাকাও ছাড়িয়েছিল। সরকারের সদিচ্ছা থাকায় এখন অনেক পণ্যের দাম কমেছে।”