ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামে পতন • কাঁচা মরিচ, শসা, লেবুর দাম অর্ধেকে • পেঁয়াজ স্থিতিশীল, আলুতে ঊর্ধ্বগতি

ঈদের পর বাজারে স্বস্তি: কমেছে সবজি ও মুরগির দাম, বেড়েছে আলু

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীর বাজারগুলোতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। দাম কমেছে অধিকাংশ সবজির, পাশাপাশি কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমতির দিকে।
বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ টাকা এবং পটল ২০ টাকা কমে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচ, শসা ও লেবুর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাঁচা মরিচ এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, দেশি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, ধনেপাতা দেশি ১৮০ টাকা ও হাইব্রিড ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১৯০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি কক মুরগি ৪০০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩৬০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৭০০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

শীতকালীন কিছু সবজির দাম বাড়তে দেখা গেছে। সিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মূলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। লালশাক ১০ টাকা আঁটি, লাউশাক ২০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং পালংশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আলুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নতুন আলু কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে—দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি।

মাছের বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিমের বাজারে লাল ডিম ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি ককের ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামে পতন • কাঁচা মরিচ, শসা, লেবুর দাম অর্ধেকে • পেঁয়াজ স্থিতিশীল, আলুতে ঊর্ধ্বগতি

ঈদের পর বাজারে স্বস্তি: কমেছে সবজি ও মুরগির দাম, বেড়েছে আলু

আপডেট সময়: ০২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীর বাজারগুলোতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি কেনাবেচা। ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। দাম কমেছে অধিকাংশ সবজির, পাশাপাশি কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় খুচরা বাজারে দাম কমতির দিকে।
বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ টাকা এবং পটল ২০ টাকা কমে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচ, শসা ও লেবুর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কাঁচা মরিচ এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, দেশি শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, ধনেপাতা দেশি ১৮০ টাকা ও হাইব্রিড ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমে ১৯০ টাকায় নেমে এসেছে। সোনালি কক মুরগি ৪০০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩৬০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম ৭০০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, মাথার মাংস ৪৫০ টাকা এবং বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি।

✒️ আরও পড়ুন 📖  ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৮ লাখ কোটি টাকা

শীতকালীন কিছু সবজির দাম বাড়তে দেখা গেছে। সিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মূলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি এসেছে। লালশাক ১০ টাকা আঁটি, লাউশাক ২০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং পালংশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আলুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নতুন আলু কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে—দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি।

মাছের বাজারে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডিমের বাজারে লাল ডিম ডজন ১১০ থেকে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি ককের ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।