ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভারে ডিবির অভিযানে ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ও ফেয়ারডিলসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সাভারে ৫০০ ট্যাপেন্টাডলসহ দুই নারী গ্রেফতার

মাদকবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর অদূরে সাভারে অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চার বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন-এর নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক নির্মূলে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১টা ১০ মিনিটে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) শেখ মফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাভার মডেল থানার ভরারী দক্ষিণপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে দুই নারীকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফাতেমা বেগম (৪৫) এবং আসমা আক্তার (২৪)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং গোপনে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যার মোট ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪ বোতল ফেনসিডিল, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪০০ মিলিলিটার এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ট্যাপেন্টাডল একটি নিয়ন্ত্রিত ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে অসাধু চক্র এটি মাদক হিসেবে অপব্যবহার করছে। এ কারণে এ ধরনের ওষুধের অবৈধ মজুত, বিক্রি ও পরিবহনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ আরও জানায়, মাদকের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা অভিযান ও বিশেষ তল্লাশি পরিচালিত হচ্ছে। মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

সাভারে ডিবির অভিযানে ৫০০ ট্যাপেন্টাডল ও ফেয়ারডিলসহ দুই নারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সাভারে ৫০০ ট্যাপেন্টাডলসহ দুই নারী গ্রেফতার

আপডেট সময়: ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মাদকবিরোধী চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর অদূরে সাভারে অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চার বোতল ফেনসিডিল এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর)। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন-এর নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক নির্মূলে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১টা ১০ মিনিটে ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) শেখ মফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সাভার মডেল থানার ভরারী দক্ষিণপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালে দুই নারীকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ফাতেমা বেগম (৪৫) এবং আসমা আক্তার (২৪)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং গোপনে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যার মোট ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪ বোতল ফেনসিডিল, যার মোট পরিমাণ প্রায় ৪০০ মিলিলিটার এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ট্যাপেন্টাডল একটি নিয়ন্ত্রিত ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে অসাধু চক্র এটি মাদক হিসেবে অপব্যবহার করছে। এ কারণে এ ধরনের ওষুধের অবৈধ মজুত, বিক্রি ও পরিবহনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ আরও জানায়, মাদকের বিস্তার রোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা অভিযান ও বিশেষ তল্লাশি পরিচালিত হচ্ছে। মাদক নির্মূলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে নতুন নেতৃত্ব

এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ।