ঢাকার সাভারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারজন পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য এবং তারা অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ঢাকা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন-এর সার্বিক নির্দেশনায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ছিনতাই, ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মো. মতিউর রহমান ও সঙ্গীয় ফোর্স সাভার মডেল থানার মোগড়াকান্দা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন মো. আরাফাত হোসেন (২৪), মো. শুভ (২০), রাফসান আহম্মেদ রানা (২৪) এবং মো. ইয়াসিন আরাফাত (২৩)। গ্রেপ্তারকৃতরা সাভার মডেল থানার বড়দেশী পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, তাদের দেহ তল্লাশি ও হেফাজত থেকে একটি লোহার তৈরি ধারালো চাপাতি, একটি স্টিলের তৈরি ধারালো চাপাতি, একটি স্টিলের তৈরি সেলাই রেঞ্চ, একটি স্টিলের তৈরি কাটার, একটি স্টিলের তৈরি ছুরি এবং একটি লোহার তৈরি প্লাস উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে তারা দেশীয় অস্ত্র বহন করছিল বলে পুলিশের ধারণা। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমনে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 






