ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক প্রথম রানেই ব্যাট তুলে উদযাপন, চার শূন্যের চাপ কাটিয়ে লিটনের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার বিতর্ক পেছনে ফেলে আল নাসরের জার্সিতে ফিরেই গোল, রোনালদোর ক্যারিয়ারে ৯৮০তম মাইলফলক মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক সাভারে ডিবি পুলিশের অভিযান: ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন কক্সবাজারে হোটেলকক্ষে কুলসুমা হত্যা: সাত দিন পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অভিযুক্ত ইরফান গ্রেফতার রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ১০ ধরনের খাবার, সুস্থ থাকতে রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় উৎসবের আগে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে মাস্ক-আম্বানি দ্বন্দ্ব তীব্র; একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক

মার্কিন প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্ক এবং ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। ফাইল ছবি

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ও মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি, ব্যবসা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতে নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর সুযোগ চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সহযোগী সংস্থা স্টারলিংক। অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গোষ্ঠীও দেশটির টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থের সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আম্বানিকে উদ্দেশ করে যা বললেন মাস্ক

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ করে ইলন মাস্ক ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, ভারতের প্রকৃত কর্তা যে আপনিই—তা বুঝতে না পারার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

এরপর স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে আম্বানির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাস্কের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।

তবে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধনটি ছিল মাস্কের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ভাষ্য; এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা বাস্তব পদবির উল্লেখ নয়।

একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ মাস্কের

স্টারলিংকের বাজারে প্রবেশ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বুধবার। এক্সে এক ব্যবহারকারীর মন্তব্যের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।

মাস্কের দাবি, এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। তাঁর মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে গ্রাহকেরা আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

যদিও তিনি তাঁর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, পরবর্তী পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে সরাসরি উদ্দেশ করে মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে রিলায়েন্স জিওর বড় বাজার-অবস্থান থাকায় এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে মাস্কের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভারতের সরকারি অবস্থানও ভিন্ন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় বৈষম্য করা হচ্ছে—মাস্কের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠার পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগকে মন্ত্রণালয় ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে।

সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য একটি সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা রয়েছে। ফলে স্টারলিংকের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়টি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত বা বৈরিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ সরকার গ্রহণ করেনি।

এ অবস্থায় স্টারলিংকের বাজারে প্রবেশ নিয়ে মাস্কের অভিযোগ এবং ভারত সরকারের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে কারা প্রতিদ্বন্দ্বী?

ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে। আলোচনায় থাকা প্রধান তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—

১. স্টারলিংক: ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা বিপুলসংখ্যক উপগ্রহের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।

২. ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব: ইউটেলস্যাট গোষ্ঠীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠান ভারতী গোষ্ঠীর সঙ্গে ওয়ানওয়েবের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

৩. জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড: রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেয়েছে। তবে লাইসেন্স পাওয়া এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি পাওয়া এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় তরঙ্গ বরাদ্দ, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

লাইসেন্স থাকার পরও কেন অপেক্ষায় স্টারলিংক?

স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাস্কের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ভারতের আইন ও শর্ত মেনে চলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স পেয়েছে; তাই ভারতে অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে কোনো দেশে লাইসেন্স পাওয়া মানেই অন্য দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষেবা চালুর অধিকার অর্জন করা নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব টেলিযোগাযোগ আইন, নিরাপত্তা নীতি, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত থাকে।

ভারতের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন। ফলে স্টারলিংকের অনুমোদনপ্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রযোজ্য নিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনা করা জরুরি।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছানোর যুক্তি

স্টারলিংকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মাস্ক বলেছেন, ভারতের অনেক এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে দুর্গম গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রচলিত যোগাযোগ অবকাঠামোর বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

মাস্কের মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

ইন্টারনেট সুবিধা বাড়লে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার, দূরশিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনলাইনে পণ্য বিক্রি, ডিজিটাল লেনদেন এবং বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ বিকল্প সংযোগ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। মাস্কের বক্তব্যে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ ও জীবন রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিষেবার মূল্য, নেটওয়ার্কের সক্ষমতা, স্থানীয় চাহিদা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের ওপর।

আম্বানি ও মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত

ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে রিলায়েন্স জিওর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিয়ে দেশটির বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী।

এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণনীতি, অনুমোদনপ্রক্রিয়া, বাজারে প্রবেশের শর্ত এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে দুই পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাস্কের বক্তব্যে একদিকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ চাওয়ার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নটি শুধু দুটি ধনকুবেরের ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ নীতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।

সামনে কী হতে পারে?

ভারতে স্টারলিংকের পরিষেবা চালু হলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট খাতে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করলেই ইন্টারনেটের দাম কমবে বা পরিষেবার মান বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে, প্রতিষ্ঠানগুলো কী মূল্যে পরিষেবা দিচ্ছে, ব্যবহারকারীদের জন্য কী ধরনের প্যাকেজ থাকছে, সরকার কী শর্তে অনুমোদন দিচ্ছে এবং বিদ্যমান অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কীভাবে গড়ে উঠছে।

অন্যদিকে, ভারতের সরকার যদি নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের ওপর জোর দেয়, তবে স্টারলিংককে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

সব মিলিয়ে, মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে ইলন মাস্কের কটাক্ষ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারের প্রতিযোগিতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে এই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা, সরকারি অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র : এনডিটিভি

কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিয়ে মাস্ক-আম্বানি দ্বন্দ্ব তীব্র; একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ ইলন মাস্কের, স্টারলিংক নিয়ে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময়: ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ও মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে ব্যঙ্গ করে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে প্রযুক্তি, ব্যবসা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতে নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর সুযোগ চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সহযোগী সংস্থা স্টারলিংক। অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স গোষ্ঠীও দেশটির টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থের সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আম্বানিকে উদ্দেশ করে যা বললেন মাস্ক

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ করে ইলন মাস্ক ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, ভারতের প্রকৃত কর্তা যে আপনিই—তা বুঝতে না পারার জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

এরপর স্টারলিংককে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে আম্বানির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাস্কের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ভারতের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে।

তবে আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধনটি ছিল মাস্কের ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ভাষ্য; এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা বাস্তব পদবির উল্লেখ নয়।

একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ মাস্কের

স্টারলিংকের বাজারে প্রবেশ নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বুধবার। এক্সে এক ব্যবহারকারীর মন্তব্যের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।

মাস্কের দাবি, এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী। তাঁর মতে, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে গ্রাহকেরা আরও উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  কঙ্গোতে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, দুই জেনারেলসহ নিহত অন্তত ১৪

যদিও তিনি তাঁর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, পরবর্তী পোস্টে মুকেশ আম্বানিকে সরাসরি উদ্দেশ করে মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতে রিলায়েন্স জিওর বড় বাজার-অবস্থান থাকায় এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে মাস্কের অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভারতের সরকারি অবস্থানও ভিন্ন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় বৈষম্য করা হচ্ছে—মাস্কের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ ওঠার পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগকে মন্ত্রণালয় ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে।

সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য একটি সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা রয়েছে। ফলে স্টারলিংকের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়টি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত বা বৈরিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ সরকার গ্রহণ করেনি।

এ অবস্থায় স্টারলিংকের বাজারে প্রবেশ নিয়ে মাস্কের অভিযোগ এবং ভারত সরকারের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে কারা প্রতিদ্বন্দ্বী?

ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ রয়েছে। আলোচনায় থাকা প্রধান তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—

১. স্টারলিংক: ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা বিপুলসংখ্যক উপগ্রহের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।

২. ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব: ইউটেলস্যাট গোষ্ঠীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা। ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিষ্ঠান ভারতী গোষ্ঠীর সঙ্গে ওয়ানওয়েবের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

৩. জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড: রিলায়েন্স গোষ্ঠীর জিও প্ল্যাটফর্মসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারতের ডিজিটাল সংযোগব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেয়েছে। তবে লাইসেন্স পাওয়া এবং পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি পাওয়া এক বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় তরঙ্গ বরাদ্দ, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

✒️ আরও পড়ুন 📖  পাকিস্তানের খাইরপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

লাইসেন্স থাকার পরও কেন অপেক্ষায় স্টারলিংক?

স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাস্কের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ভারতের আইন ও শর্ত মেনে চলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স পেয়েছে; তাই ভারতে অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে কোনো দেশে লাইসেন্স পাওয়া মানেই অন্য দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষেবা চালুর অধিকার অর্জন করা নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব টেলিযোগাযোগ আইন, নিরাপত্তা নীতি, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদনসংক্রান্ত শর্ত থাকে।

ভারতের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন। ফলে স্টারলিংকের অনুমোদনপ্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রযোজ্য নিয়ম এবং প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনা করা জরুরি।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছানোর যুক্তি

স্টারলিংকের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মাস্ক বলেছেন, ভারতের অনেক এলাকায় এখনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে দুর্গম গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রচলিত যোগাযোগ অবকাঠামোর বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী উন্নত ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

মাস্কের মতে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

ইন্টারনেট সুবিধা বাড়লে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার, দূরশিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অনলাইনে পণ্য বিক্রি, ডিজিটাল লেনদেন এবং বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা স্থলভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ বিকল্প সংযোগ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। মাস্কের বক্তব্যে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ ও জীবন রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে এসব সুবিধা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিষেবার মূল্য, নেটওয়ার্কের সক্ষমতা, স্থানীয় চাহিদা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের ওপর।

✒️ আরও পড়ুন 📖  হোয়াটসঅ্যাপে আসছে নতুন ‘অনলাইন ইন্ডিকেটর’ ফিচার, যে সুবিধা পাওয়া যাবে

আম্বানি ও মাস্কের ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত

ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে রিলায়েন্স জিওর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিয়ে দেশটির বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী।

এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণনীতি, অনুমোদনপ্রক্রিয়া, বাজারে প্রবেশের শর্ত এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে দুই পক্ষের স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাস্কের বক্তব্যে একদিকে বাজারে প্রবেশের সুযোগ চাওয়ার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে ভারতের প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতার প্রশ্নটি শুধু দুটি ধনকুবেরের ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ নীতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।

সামনে কী হতে পারে?

ভারতে স্টারলিংকের পরিষেবা চালু হলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট খাতে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। প্রত্যন্ত এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করলেই ইন্টারনেটের দাম কমবে বা পরিষেবার মান বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে, প্রতিষ্ঠানগুলো কী মূল্যে পরিষেবা দিচ্ছে, ব্যবহারকারীদের জন্য কী ধরনের প্যাকেজ থাকছে, সরকার কী শর্তে অনুমোদন দিচ্ছে এবং বিদ্যমান অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কীভাবে গড়ে উঠছে।

অন্যদিকে, ভারতের সরকার যদি নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের ওপর জোর দেয়, তবে স্টারলিংককে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

সব মিলিয়ে, মুকেশ আম্বানিকে ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ বলে ইলন মাস্কের কটাক্ষ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারের প্রতিযোগিতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও আলোচনায় এনেছে। তবে এই বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে অভিযোগের সত্যতা, সরকারি অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র : এনডিটিভি