তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেছেন অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আশুলিয়ার কাঠগড়া অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ২৬টি তৈরি পোশাক কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রথমে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও কাজে যোগ না দিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভে অংশ নেন।
একপর্যায়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের আন্দোলনে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবি উঠে আসে।
বিক্ষোভ চলাকালে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এগিয়ে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে একাধিক শিল্প পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আশুলিয়ার কাঠগড়া ও আশপাশের এলাকার ২৬টি পোশাক কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কারখানাগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূইয়া গণমাধ্যমকে জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পর্যন্ত ২৬টি পোশাক কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পুলিশ এবং শিল্প পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আশুলিয়া প্রতিনিধি 

