ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার সাভারে ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-হেরোইন ও নগদ টাকা সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার উদ্ধার সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা? তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাভার বিএনপি সভাপতি সাইফুলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ তৃণমূল আমিনবাজারে সরকারি ডিজেল পাচারের অভিযোগ, ট্রাকচালক আটক
মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরিতে ডিবি পুলিশের অভিযান; ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ জন, আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

ঢাকার সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপ থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর ) রাতে সাভার মডেল থানাধীন মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহবুব আলম (৪৯), মো. খোরশেদ আলম (৫০) ও জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত (২০)। তাঁদের মধ্যে মাহবুব আলম ও খোরশেদ আলমের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এলাকায়। তাঁরা বর্তমানে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত সাভার মডেল থানার মেলার টেক এলাকার বাসিন্দা।

ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) বিভাগের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরির ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবস্থান করছেন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজত থেকে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে বিন্যান্স (Binance) অ্যাপ ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্যে ইউএসডিটি (USDT) নামের ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ জমা, স্থানান্তর ও উত্তোলনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছেন কি না, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ কত এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তের মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ কার্যক্রমের প্রকৃতি, ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অর্থ লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বৈধতা, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বিশেষ করে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি, দ্রুত টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব পেলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো আর্থিক লেনদেনে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য করার অধিকার রয়েছে।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরিতে ডিবি পুলিশের অভিযান; ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ জন, আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

আপডেট সময়: ৭ ঘন্টা আগে

ঢাকার সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগ। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপ থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর ) রাতে সাভার মডেল থানাধীন মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মাহবুব আলম (৪৯), মো. খোরশেদ আলম (৫০) ও জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত (২০)। তাঁদের মধ্যে মাহবুব আলম ও খোরশেদ আলমের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর এলাকায়। তাঁরা বর্তমানে সাভারের মধুমতি মডেল টাউনে বসবাস করছিলেন বলে পুলিশের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি জুনায়েদুল ইসলাম সিফাত সাভার মডেল থানার মেলার টেক এলাকার বাসিন্দা।

ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর) বিভাগের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর রাত ১০টা ৫ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, মধুমতি মডেল টাউনের একটি ফুড লাইব্রেরির ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন ও অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অবস্থান করছেন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজত থেকে তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনে বিন্যান্স (Binance) অ্যাপ ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশের দেওয়া তথ্যে ইউএসডিটি (USDT) নামের ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ জমা, স্থানান্তর ও উত্তোলনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  সাভারে ২৪০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

তবে এ কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগকারী প্রতারিত হয়েছেন কি না, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ কত এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তের মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ কার্যক্রমের প্রকৃতি, ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অর্থ লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।

বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বৈধতা, প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা এবং প্রযোজ্য আইন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বিশেষ করে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি, দ্রুত টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব পেলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো আর্থিক লেনদেনে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য করার অধিকার রয়েছে।