সৌদি আরব ও ভারতের মধ্যে বিমান চলাচলে সাম্প্রতিক বিঘ্নের কারণে ওমরাহ যাত্রীদের ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের জরুরি সহায়তা দিতে জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
কনস্যুলেটের সর্বশেষ ভ্রমণ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা ওমরাহ যাত্রীদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের সম্ভাবনা এবং ফিরতি যাত্রার নিশ্চয়তা সম্পর্কে জেনে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব যাত্রীর ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাঁদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ফ্লাইট বাতিল, যাত্রা পিছিয়ে যাওয়া কিংবা সৌদি আরবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হতে পারে।
জেদ্দা-মদিনার ফ্লাইট নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা হয়ে যাতায়াতকারী ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বিমান চলাচলের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব গন্তব্যে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা বাতিলের আশঙ্কা থাকায় যাত্রীদের যাত্রার আগে টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রীদের ক্ষেত্রে শুধু সৌদিগামী ফ্লাইট নয়, ফিরতি ফ্লাইটের অবস্থাও যাচাই করা জরুরি। কারণ, যাত্রার সময়সূচি পরিবর্তিত হলে হোটেল বুকিং, পরিবহন, ভিসার মেয়াদ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রভাব পড়তে পারে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের টিকিট, পাসপোর্ট, ভিসা, হোটেল বুকিং এবং বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু ভারতের কনস্যুলেটের
বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে সৌদি আরবে অবস্থানরত কিংবা সেখানে যাওয়ার পথে সমস্যায় পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা দিতে জেদ্দায় ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া। যেসব যাত্রী ফ্লাইট বাতিল, যাত্রা পরিবর্তন কিংবা সৌদি আরবে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
তবে জরুরি যোগাযোগের নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানার মতো তথ্য ব্যবহারের আগে কনস্যুলেটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে সেগুলো নিশ্চিত করে নেওয়া প্রয়োজন।
২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের বিমান সংস্থা ইন্ডিগো তাদের সৌদিগামী ও সৌদি আরব থেকে ছেড়ে আসা একাধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনাগামী এবং এসব গন্তব্য থেকে ফিরতি ফ্লাইট বাতিল রাখা হয়েছে।
বিমান সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বার্তায় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিট বুকিংয়ের সময় দেওয়া যোগাযোগের তথ্য অনুযায়ী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাঁরা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিমান সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেওয়া জরুরি।
আকাসা এয়ারের সৌদিগামী ফ্লাইটেও স্থগিতাদেশ
একই পরিস্থিতিতে ভারতের আরেক বিমান সংস্থা আকাসা এয়ারও সৌদি আরবগামী ফ্লাইট পরিচালনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংস্থাটি রিয়াদগামী ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর এবং জেদ্দাগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে এসব রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হতে পারে।
বিমান সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য দুটি বিকল্প রেখেছে। প্রথমত, যাত্রীরা টিকিটের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে সাত দিনের মধ্যে মূল অর্থ পরিশোধের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যাত্রীরা কোনো অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে বিকল্প সুবিধা গ্রহণের শর্ত, প্রযোজ্য সময়সীমা এবং বুকিংয়ের ধরন অনুযায়ী করণীয় জানতে বিমান সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
যাঁরা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরত কিংবা তারিখ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য জরুরি পরামর্শ
বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তার মধ্যে ওমরাহ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, যাত্রার আগে বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ কিংবা অনুমোদিত যোগাযোগমাধ্যম থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে হবে। পুরোনো টিকিট বা বুকিং নিশ্চিতকরণ বার্তাকে ফ্লাইট সচল থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, ফ্লাইট বাতিল হলে অর্থ ফেরত বা তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা কিংবা টিকিট বিক্রেতার কাছ থেকে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করা ভালো। তৃতীয়ত, সৌদি আরবে অবস্থানরত যাত্রীদের ভিসা ও অবস্থানের অনুমোদিত মেয়াদ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিমান সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।
নিরাপত্তাই বিমান সংস্থাগুলোর প্রধান অগ্রাধিকার
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচলে পরিবর্তন যাত্রীদের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করলেও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের সময়সীমা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের জন্য সর্বশেষ তথ্য যাচাই, আগাম প্রস্তুতি এবং বিকল্প ভ্রমণব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গালফ নিউজে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে।

অনলাইন ডেস্ক 








