ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা–৯ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ; ‘টাকার রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান করে স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক ক্যাম্পেইনের ডাক।

মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা: অনুদান গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা ডা. তাসনিম জারার

ছবি: ডা. তাসনিম জারা ( ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ঢাকা–৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হওয়ায় আপাতত নতুন করে আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।”

ডা. তাসনিম জারা বলেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন, টাকা খরচ করলেই ভোট কেনা সম্ভব। কিন্তু সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতেই তারা মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে আছেন আপনারা—যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের পকেটের টাকাও খরচ করতে প্রস্তুত। জনগণের এই শক্তিই আমাদের আসল সম্বল।”

ঢাকা–৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছে উল্লেখ করে ডা. তাসনিম জারা বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও সর্বোচ্চ ১০০–১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। পুরো নির্বাচনী সময়ে বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে। এর অর্থ, কয়েক লাখ পরিবারের কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন তিনি।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই কোনো পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না। মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ঢাকা–৯ আসনের ভোটার না হলেও অনেকের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত কেউ না কেউ এই এলাকায় থাকেন। পরিচিত মানুষের একটি ফোন কল বা ব্যক্তিগত কথাবার্তা পোস্টার, ব্যানার কিংবা অর্থ ব্যয় করে চালানো প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিয়ম মেনে পোস্টার লাগাইনি। অন্য প্রার্থীরা লাগিয়েছেন। এই অসমতা কাটাতেও আপনার একটি ফোন কল বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

ডা. তাসনিম জারা সমর্থকদের উদ্দেশে দুটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানান— সপ্তাহে মাত্র ৪–৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে টিমের সঙ্গে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার আহ্বান। পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা ভোটের দিন ভোটারদের সহায়তা করতে টিমে যোগ দেওয়ার অনুরোধ।

তিনি বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।”

সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ডা. তাসনিম জারা বলেন—কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করা হয়নি; একটি মাত্র বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান এসেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, তা নিয়মিত প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। অনুদান গ্রহণের অ্যাকাউন্ট দুটি নতুন; ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন সেখানে করা হয়নি।

সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় হবে, তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। শেষে তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব—জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।”

ডিবির পৃথক অভিযানে বিপুল মাদক উদ্ধার, আটক ৩

ঢাকা–৯ আসনে এনসিপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ; ‘টাকার রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান করে স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক ক্যাম্পেইনের ডাক।

মাত্র ২৯ ঘণ্টায় ৪৭ লাখ টাকা: অনুদান গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা ডা. তাসনিম জারার

আপডেট সময়: ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা–৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হওয়ায় আপাতত নতুন করে আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ডা. তাসনিম জারা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা আপনারা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ করে ফেলেছেন। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।”

ডা. তাসনিম জারা বলেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে অধিকাংশ প্রার্থী ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করবেন। অনেকেই মনে করেন, টাকা খরচ করলেই ভোট কেনা সম্ভব। কিন্তু সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করতেই তারা মাঠে নেমেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে আছেন আপনারা—যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের পকেটের টাকাও খরচ করতে প্রস্তুত। জনগণের এই শক্তিই আমাদের আসল সম্বল।”

ঢাকা–৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছে উল্লেখ করে ডা. তাসনিম জারা বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করে কথা বললেও সর্বোচ্চ ১০০–১১০টি পরিবারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। পুরো নির্বাচনী সময়ে বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে। এর অর্থ, কয়েক লাখ পরিবারের কাছে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব নয়—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছেন তিনি।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, “আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করতে এসেছি। তাই কোনো পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না। মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ঢাকা–৯ আসনের ভোটার না হলেও অনেকের আত্মীয়, বন্ধু বা পরিচিত কেউ না কেউ এই এলাকায় থাকেন। পরিচিত মানুষের একটি ফোন কল বা ব্যক্তিগত কথাবার্তা পোস্টার, ব্যানার কিংবা অর্থ ব্যয় করে চালানো প্রচারণার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিয়ম মেনে পোস্টার লাগাইনি। অন্য প্রার্থীরা লাগিয়েছেন। এই অসমতা কাটাতেও আপনার একটি ফোন কল বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

ডা. তাসনিম জারা সমর্থকদের উদ্দেশে দুটি নির্দিষ্ট আহ্বান জানান— সপ্তাহে মাত্র ৪–৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে টিমের সঙ্গে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার আহ্বান। পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা ভোটের দিন ভোটারদের সহায়তা করতে টিমে যোগ দেওয়ার অনুরোধ।

তিনি বলেন, “ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন, যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না।”

সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ডা. তাসনিম জারা বলেন—কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করা হয়নি; একটি মাত্র বিকাশ ও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান এসেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

কোন মাধ্যমে কত টাকা এসেছে, তা নিয়মিত প্রকাশ করা হবে এবং নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। অনুদান গ্রহণের অ্যাকাউন্ট দুটি নতুন; ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন সেখানে করা হয়নি।

সংগৃহীত অর্থ কোন খাতে কত ব্যয় হবে, তা স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। শেষে তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে প্রমাণ করব—জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।”