ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবনে আয়ু কমার ঝুঁকি

দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক: বিশেষজ্ঞরা

ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবনে আয়ু কমতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ আমেরিকাস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা যদি ঘুমের ওষুধ সেবন বন্ধ করেন, তাহলে তারা আরও সুস্থভাবে বার্ধক্যে পা রাখতে পারেন এবং চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ওষুধ বন্ধ করলে— ঝুঁকি কমে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত, মানসিক অবক্ষয়ের হার ধীর হয় প্রায় ২ শতাংশ, এবং গড় আয়ু অন্তত এক মাসেরও বেশি বাড়ে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও ওষুধ খাতে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় সম্ভব।

🔹 গবেষণার পেছনের দল>
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেফার সেন্টার ফর হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকনমিকসের গবেষক হেনকে হ্যাভেন জনসন। তিনি বলেন, “বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার কমানো শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এতে তারা আরও নিরাপদ ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।”

🔹 যুক্তরাষ্ট্রে ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের চিত্র>
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিয়মিত ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকরা বারবারই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন।

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় অর্ধেক মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন, যা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, হৃদরোগ ও ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবনে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়—বিশেষ করে স্লিপওয়াকিং ও দুঃস্বপ্নের প্রবণতা।

🔹 সবচেয়ে বেশি উপকার পেয়েছেন ৬৫–৭৪ বছর বয়সিরা>
গবেষকরা ফেডারেল হেলথ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট স্টাডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন—৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঘুমের ওষুধ বন্ধ করার পর সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা গেছে।
তাদের শারীরিক নিরাপত্তা, মানসিক সতর্কতা এবং গড় আয়ু—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

🔹 বিকল্প পথ: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি>
বিশেষজ্ঞদের মতে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি ফর ইনসমনিয়া (CBT-I) হলো ঘুমের ওষুধের তুলনায় বেশি কার্যকর ও নিরাপদ বিকল্প।

সিনিয়র গবেষক ড. জেসন ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এই থেরাপিতে ঘুমের ধরণ ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে—কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

🔹 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ>
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই প্রবীণদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শে নন-ড্রাগ পদ্ধতি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT-I) গ্রহণ করা।

তাদের মতে, “যদি লাখো প্রবীণ মানুষ এই বিকল্প পথে হাঁটেন, তাহলে তাদের মানসিক সতর্কতা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং জীবনমান—সবক্ষেত্রেই উন্নতি ঘটবে।”

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবনে আয়ু কমার ঝুঁকি

দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক: বিশেষজ্ঞরা

আপডেট সময়: ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

ঘুমের ওষুধ নিয়মিত সেবনে আয়ু কমতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ আমেরিকাস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ব্যক্তিরা যদি ঘুমের ওষুধ সেবন বন্ধ করেন, তাহলে তারা আরও সুস্থভাবে বার্ধক্যে পা রাখতে পারেন এবং চিকিৎসা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ওষুধ বন্ধ করলে— ঝুঁকি কমে প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত, মানসিক অবক্ষয়ের হার ধীর হয় প্রায় ২ শতাংশ, এবং গড় আয়ু অন্তত এক মাসেরও বেশি বাড়ে। পাশাপাশি চিকিৎসা ও ওষুধ খাতে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় সম্ভব।

🔹 গবেষণার পেছনের দল>
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেফার সেন্টার ফর হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকনমিকসের গবেষক হেনকে হ্যাভেন জনসন। তিনি বলেন, “বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার কমানো শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এতে তারা আরও নিরাপদ ও সক্রিয় জীবনযাপন করতে পারেন।”

🔹 যুক্তরাষ্ট্রে ঘুমের ওষুধ ব্যবহারের চিত্র>
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিয়মিত ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকরা বারবারই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন।

৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় অর্ধেক মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন, যা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, হৃদরোগ ও ডিমেনশিয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবনে এসব ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়—বিশেষ করে স্লিপওয়াকিং ও দুঃস্বপ্নের প্রবণতা।

🔹 সবচেয়ে বেশি উপকার পেয়েছেন ৬৫–৭৪ বছর বয়সিরা>
গবেষকরা ফেডারেল হেলথ অ্যান্ড রিটায়ারমেন্ট স্টাডির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন—৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঘুমের ওষুধ বন্ধ করার পর সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা গেছে।
তাদের শারীরিক নিরাপত্তা, মানসিক সতর্কতা এবং গড় আয়ু—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

🔹 বিকল্প পথ: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি>
বিশেষজ্ঞদের মতে, কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি ফর ইনসমনিয়া (CBT-I) হলো ঘুমের ওষুধের তুলনায় বেশি কার্যকর ও নিরাপদ বিকল্প।

✒️ আরও পড়ুন 📖  ১২৯ বছরের বিজ্ঞানজয়: টাইফয়েড টিকা

সিনিয়র গবেষক ড. জেসন ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এই থেরাপিতে ঘুমের ধরণ ও চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে—কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই।

🔹 বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ>
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই প্রবীণদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শে নন-ড্রাগ পদ্ধতি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT-I) গ্রহণ করা।

তাদের মতে, “যদি লাখো প্রবীণ মানুষ এই বিকল্প পথে হাঁটেন, তাহলে তাদের মানসিক সতর্কতা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং জীবনমান—সবক্ষেত্রেই উন্নতি ঘটবে।”