রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে নিজ কক্ষে ধূমপান এবং কক্ষ অপরিচ্ছন্ন রাখার ঘটনায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ এবং কর্মক্ষেত্রের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওই চিকিৎসককে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান।
হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য শিশু উন্নত চিকিৎসা ও সেবার জন্য আসে, সেখানে দায়িত্বশীল একজন চিকিৎসকের এমন আচরণে প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বশীলতার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক জানান, ঘটনাটি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরে ধূমপান এবং কর্মক্ষেত্রের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে এ ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের তাগিদ দেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু ও তাদের অভিভাবকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করাও জরুরি।
চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল আচরণ, কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ানো সম্ভব। এ কারণে হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে নিয়মিত তদারকি ও দায়িত্ব পালনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট দেশের শিশুদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত আচরণ, কর্মপরিবেশের পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের মধ্য দিয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে।
তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য, সাময়িক বরখাস্তের আনুষ্ঠানিক আদেশ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।
হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নত করা, রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক 






