ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সুস্থ জীবনের জন্য ঘুম অনিবার্য — ঘুম ও জাগরণের সুন্নত

ঘুম ও জাগরণ: সুন্নতের আলোকে জীবনধারা

  • ইসলাম ও জীবন
  • আপডেট সময়: ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • 109

🌙 ঘুম—আল্লাহর দান ও আরামের ব্যবস্থা >
ঘুম মানবজীবনের এক অপরিহার্য অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘুমকে এক মহা নিয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছেন—‘আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা আন-নাবা: ৯–১০). অর্থাৎ, ঘুম শুধু বিশ্রামের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেহ ও মনের পুনর্নবীকরণের এক ব্যবস্থা।

☪️ ঘুম—জীবন ও মৃত্যুর সীমান্তে >
প্রতিদিন যখন মানুষ ঘুমায়, তার চোখ বন্ধ হওয়াই অনেক সময় জীবনের শেষ বন্ধ হওয়া হয়ে যায়। কেউ জেগে ওঠে, কেউ আর পারে না। তাই ঘুম যেমন আল্লাহর নিয়ামত, ঘুম থেকে জেগে ওঠাও আল্লাহর দয়া।

🌄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সুন্নত >
রসুলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কিছু বিশেষ আমল করতেন, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়।

🕋 ১️⃣ ঘুম থেকে উঠে শুকরিয়া আদায় >
রসুলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে জেগে উঠলে এই দোয়া পড়তেন: “আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়াইলাইহিন নুশুর”
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং আমরা পুনরুত্থিত হয়ে তাঁর কাছেই যাব।
(সহিহ বুখারি: ৬৩১২)

📖 ২️⃣ সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত >
:ঘুমের ঘোর দূর করতে ও আত্মার প্রশান্তির জন্য নবী ﷺ সুরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।
(সহিহ বুখারি: ১৮৩)

🪥 ৩️⃣ মিসওয়াক ও অজু করা >
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “নবী ﷺ দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগে মিসওয়াক করতেন।”
(আবু দাউদ: ৫৭)

🙏 ৪️⃣ তাহাজ্জুদ নামাজ >
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করা মহান সুন্নত। রসুলুল্লাহ ﷺ সাধারণত ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষে বিতর নামাজ আদায় করতেন।
(সহিহ বুখারি: ১৮৩)

💫 শেষ রাতে আল্লাহর রহমতের আহ্বান >
রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশে আসমানের নিকটবর্তী অংশে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কে আছে, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে, যে আমার নিকট চাইবে, আমি তাকে তা দেব; কে আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’”
(সহিহ বুখারি: ১১৪৫). এই সময়টি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়।

🌿 উপসংহার >
ঘুম যেমন শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে, তেমনি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ।
একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নবী ﷺ–এর দেখানো সুন্নতগুলো পালন করা—এতে জীবন হবে সুন্দর, আত্মা হবে প্রশান্ত, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হবে সহজ।
✍️ লেখক: খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, গাজীপুর

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

সুস্থ জীবনের জন্য ঘুম অনিবার্য — ঘুম ও জাগরণের সুন্নত

ঘুম ও জাগরণ: সুন্নতের আলোকে জীবনধারা

আপডেট সময়: ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

🌙 ঘুম—আল্লাহর দান ও আরামের ব্যবস্থা >
ঘুম মানবজীবনের এক অপরিহার্য অংশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ঘুমকে এক মহা নিয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছেন—‘আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ।’ (সুরা আন-নাবা: ৯–১০). অর্থাৎ, ঘুম শুধু বিশ্রামের মাধ্যম নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেহ ও মনের পুনর্নবীকরণের এক ব্যবস্থা।

☪️ ঘুম—জীবন ও মৃত্যুর সীমান্তে >
প্রতিদিন যখন মানুষ ঘুমায়, তার চোখ বন্ধ হওয়াই অনেক সময় জীবনের শেষ বন্ধ হওয়া হয়ে যায়। কেউ জেগে ওঠে, কেউ আর পারে না। তাই ঘুম যেমন আল্লাহর নিয়ামত, ঘুম থেকে জেগে ওঠাও আল্লাহর দয়া।

🌄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সুন্নত >
রসুলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কিছু বিশেষ আমল করতেন, যা মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয়।

🕋 ১️⃣ ঘুম থেকে উঠে শুকরিয়া আদায় >
রসুলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে জেগে উঠলে এই দোয়া পড়তেন: “আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়াইলাইহিন নুশুর”
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করলেন এবং আমরা পুনরুত্থিত হয়ে তাঁর কাছেই যাব।
(সহিহ বুখারি: ৬৩১২)

📖 ২️⃣ সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত >
:ঘুমের ঘোর দূর করতে ও আত্মার প্রশান্তির জন্য নবী ﷺ সুরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।
(সহিহ বুখারি: ১৮৩)

🪥 ৩️⃣ মিসওয়াক ও অজু করা >
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “নবী ﷺ দিনে বা রাতে যখনই ঘুম থেকে উঠতেন, অজু করার আগে মিসওয়াক করতেন।”
(আবু দাউদ: ৫৭)

🙏 ৪️⃣ তাহাজ্জুদ নামাজ >
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করা মহান সুন্নত। রসুলুল্লাহ ﷺ সাধারণত ১২ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং শেষে বিতর নামাজ আদায় করতেন।
(সহিহ বুখারি: ১৮৩)

💫 শেষ রাতে আল্লাহর রহমতের আহ্বান >
রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“আল্লাহতায়ালা প্রতি রাতে শেষ তৃতীয়াংশে আসমানের নিকটবর্তী অংশে অবতরণ করেন এবং বলেন, ‘কে আছে, যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে, যে আমার নিকট চাইবে, আমি তাকে তা দেব; কে আছে, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’”
(সহিহ বুখারি: ১১৪৫). এই সময়টি আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়।

✒️ আরও পড়ুন 📖  দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভের দোয়া

🌿 উপসংহার >
ঘুম যেমন শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে, তেমনি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ।
একজন মুমিনের উচিত প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নবী ﷺ–এর দেখানো সুন্নতগুলো পালন করা—এতে জীবন হবে সুন্দর, আত্মা হবে প্রশান্ত, আর আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হবে সহজ।
✍️ লেখক: খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, গাজীপুর