ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার সাভারে ডিবির পৃথক অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, উদ্ধার ইয়াবা-হেরোইন ও নগদ টাকা সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান: চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, প্রাইভেটকার উদ্ধার সাভার ও আশুলিয়ায় ডিবির বিশেষ অভিযান: গাঁজা ও ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার আলিয়া-দীপিকাকে নিয়ে কী বললেন রাধিকা? তনুশ্রী দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না, অভিযোগ অভিনেত্রী হেতল যাদবের টানা ১০ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলছে স্কুল-মাদ্রাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ সাভার বিএনপি সভাপতি সাইফুলকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ তৃণমূল আমিনবাজারে সরকারি ডিজেল পাচারের অভিযোগ, ট্রাকচালক আটক
ঘুম থেকে উঠে মহানবী (সা.) যে আমল করতেন, জানুন সেই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহগুলো

সকালে ঘুম থেকে উঠে মহানবী (সা.) যে আমল করতেন

সকাল একজন মুমিনের জন্য নতুন দিনের সূচনা। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর একজন মুসলমান কীভাবে দিন শুরু করবেন—এ বিষয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবনাচরণে ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, পবিত্রতা অর্জন, নামাজ ও জিকিরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেখা যায়।

সহিহ হাদিসে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া বর্ণিত হয়েছে। হযরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে বলতেন—

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ:
আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ:
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।”
সহিহ বুখারিতে এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুম থেকে ওঠার আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর শুকরিয়া

ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুমকে ছোট একটি মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মানুষ ঘুমের সময় নিজের কোনো ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ চাইলে তাকে আবার জাগিয়ে দেন, আর চাইলে ঘুমের মধ্যেই তার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।

এ কারণে ঘুম থেকে জেগে প্রথমেই আল্লাহর প্রশংসা করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা। এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে যে, নতুন একটি দিন পাওয়াও আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত।

মিসওয়াক ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। ঘুম থেকে উঠে তিনি মিসওয়াক করতেন—এ মর্মে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা এবং নিজেকে পরিচ্ছন্ন করা একজন মুসলমানের সুন্দর সুন্নাহভিত্তিক অভ্যাস হতে পারে।

ঘুমের প্রভাব দূর করে ওজু

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের ঘুম থেকে জেগে ওঠার একটি বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি মুখ থেকে ঘুমের প্রভাব দূর করতেন, এরপর ওজু করতেন এবং নামাজে দাঁড়াতেন। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত সহিহ মুসলিমের হাদিসে এ বিষয়টি বিস্তারিত এসেছে।

অর্থাৎ ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মুসলমানের জন্য পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত সুন্দর একটি রুটিন।

তাহাজ্জুদ ও রাতের ইবাদত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের ইবাদত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে ঘুমের চিহ্ন দূর করেন, এরপর সূরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ওজু করেন এবং নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বিতর নামাজও আদায় করেন।

এ থেকে বোঝা যায়, রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর ইবাদত করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি ছিল।

ফজরের নামাজ

রাতের ইবাদতের পর ফজরের সময় হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজ আদায় করতেন। তাঁর জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাই একজন মুসলমানের সকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সময়মতো ফজরের নামাজ আদায় করা।

সকাল শুরু হতো আল্লাহর স্মরণে

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিভিন্ন সকালবেলার জিকির ও দোয়া রয়েছে। এর মধ্যে আবু বকর (রা.)-কে সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শেখানোর বর্ণনাও পাওয়া যায়। সেখানে আল্লাহকে আসমান-জমিনের স্রষ্টা ও অদৃশ্য-দৃশ্যের জ্ঞানী হিসেবে স্বীকার করে নিজের নফস ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সকালে আল্লাহর কাছে দিনের কল্যাণ, বরকত, হেদায়াত ও অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাওয়ার একটি দোয়াও আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। তবে ওই বর্ণনার হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে; তাই এটিকে সহিহ বুখারি-মুসলিমের বর্ণনার সমপর্যায়ের নিশ্চিত দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

একজন মুসলমানের জন্য সহজ সকালবেলার সুন্নাহভিত্তিক রুটিন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও বিভিন্ন সহিহ বর্ণনা থেকে একজন মুসলমান চাইলে সকালটি এভাবে সাজাতে পারেন—

১. ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করা।
২. ঘুমের দোয়া পড়া।
৩. মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা/মিসওয়াক করা।
৪. ওজু করা।
৫. ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করা।
৬. ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা।
৭. সকালবেলার জিকির ও দোয়া করা।
৮. সম্ভব হলে কোরআন তিলাওয়াত করা।
৯. আল্লাহর কাছে নিজের, পরিবার ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা।

নতুন দিন হোক আল্লাহর স্মরণে

ঘুম থেকে ওঠার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো প্রথম দোয়াটির মধ্যেই একজন মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। মানুষ নতুন একটি দিন পেয়েছে—এটি কেবল দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা নয়; বরং আল্লাহর একটি নিয়ামত।

তাই ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা দৈনন্দিন ব্যস্ততায় যাওয়ার আগে কয়েক মুহূর্ত আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং নামাজের মাধ্যমে দিনের সূচনা করা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।

সকাল শুরু হোক আল্লাহর নামে, দিন কাটুক সুন্নাহর আলোকে—এটাই হতে পারে একজন মুমিনের সুন্দর দিনের সূচনা।

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতারণা চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩টি মোবাইল উদ্ধার

ঘুম থেকে উঠে মহানবী (সা.) যে আমল করতেন, জানুন সেই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহগুলো

সকালে ঘুম থেকে উঠে মহানবী (সা.) যে আমল করতেন

আপডেট সময়: ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকাল একজন মুমিনের জন্য নতুন দিনের সূচনা। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর একজন মুসলমান কীভাবে দিন শুরু করবেন—এ বিষয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর উম্মতকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর জীবনাচরণে ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, পবিত্রতা অর্জন, নামাজ ও জিকিরের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেখা যায়।

সহিহ হাদিসে ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া বর্ণিত হয়েছে। হযরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে জেগে বলতেন—

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

উচ্চারণ:
আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা‘দা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ:
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।”
সহিহ বুখারিতে এই দোয়াটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘুম থেকে ওঠার আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহর শুকরিয়া

ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুমকে ছোট একটি মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মানুষ ঘুমের সময় নিজের কোনো ক্ষমতা রাখে না। আল্লাহ চাইলে তাকে আবার জাগিয়ে দেন, আর চাইলে ঘুমের মধ্যেই তার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে।

এ কারণে ঘুম থেকে জেগে প্রথমেই আল্লাহর প্রশংসা করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা। এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে যে, নতুন একটি দিন পাওয়াও আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত।

মিসওয়াক ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। ঘুম থেকে উঠে তিনি মিসওয়াক করতেন—এ মর্মে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করা এবং নিজেকে পরিচ্ছন্ন করা একজন মুসলমানের সুন্দর সুন্নাহভিত্তিক অভ্যাস হতে পারে।

ঘুমের প্রভাব দূর করে ওজু

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের ঘুম থেকে জেগে ওঠার একটি বর্ণনায় দেখা যায়, তিনি মুখ থেকে ঘুমের প্রভাব দূর করতেন, এরপর ওজু করতেন এবং নামাজে দাঁড়াতেন। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত সহিহ মুসলিমের হাদিসে এ বিষয়টি বিস্তারিত এসেছে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  আল্লাহর ক্ষমা লাভের অন্যতম আমল ইস্তিগফার: কোরআন-হাদিসে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব

অর্থাৎ ঘুম থেকে ওঠার পর একজন মুসলমানের জন্য পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জন করে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা অত্যন্ত সুন্দর একটি রুটিন।

তাহাজ্জুদ ও রাতের ইবাদত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের ইবাদত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে ঘুমের চিহ্ন দূর করেন, এরপর সূরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন, ওজু করেন এবং নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বিতর নামাজও আদায় করেন।

এ থেকে বোঝা যায়, রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর ইবাদত করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি ছিল।

ফজরের নামাজ

রাতের ইবাদতের পর ফজরের সময় হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজ আদায় করতেন। তাঁর জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফজরের আগে দুই রাকাত সুন্নত নামাজেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাই একজন মুসলমানের সকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সময়মতো ফজরের নামাজ আদায় করা।

সকাল শুরু হতো আল্লাহর স্মরণে

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিভিন্ন সকালবেলার জিকির ও দোয়া রয়েছে। এর মধ্যে আবু বকর (রা.)-কে সকালে ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শেখানোর বর্ণনাও পাওয়া যায়। সেখানে আল্লাহকে আসমান-জমিনের স্রষ্টা ও অদৃশ্য-দৃশ্যের জ্ঞানী হিসেবে স্বীকার করে নিজের নফস ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সকালে আল্লাহর কাছে দিনের কল্যাণ, বরকত, হেদায়াত ও অনিষ্ট থেকে নিরাপত্তা চাওয়ার একটি দোয়াও আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে। তবে ওই বর্ণনার হাদিসের মান নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে; তাই এটিকে সহিহ বুখারি-মুসলিমের বর্ণনার সমপর্যায়ের নিশ্চিত দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

একজন মুসলমানের জন্য সহজ সকালবেলার সুন্নাহভিত্তিক রুটিন

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা ও বিভিন্ন সহিহ বর্ণনা থেকে একজন মুসলমান চাইলে সকালটি এভাবে সাজাতে পারেন—

✒️ আরও পড়ুন 📖  ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার

১. ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করা।
২. ঘুমের দোয়া পড়া।
৩. মুখ ও দাঁত পরিষ্কার করা/মিসওয়াক করা।
৪. ওজু করা।
৫. ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করা।
৬. ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করা।
৭. সকালবেলার জিকির ও দোয়া করা।
৮. সম্ভব হলে কোরআন তিলাওয়াত করা।
৯. আল্লাহর কাছে নিজের, পরিবার ও মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করা।

নতুন দিন হোক আল্লাহর স্মরণে

ঘুম থেকে ওঠার পর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো প্রথম দোয়াটির মধ্যেই একজন মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। মানুষ নতুন একটি দিন পেয়েছে—এটি কেবল দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা নয়; বরং আল্লাহর একটি নিয়ামত।

তাই ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা দৈনন্দিন ব্যস্ততায় যাওয়ার আগে কয়েক মুহূর্ত আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং নামাজের মাধ্যমে দিনের সূচনা করা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।

সকাল শুরু হোক আল্লাহর নামে, দিন কাটুক সুন্নাহর আলোকে—এটাই হতে পারে একজন মুমিনের সুন্দর দিনের সূচনা।