ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪ পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে সহায়তা সৌদি আরবের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ধামরাইয়ে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার কোন নামাজে কী আমল করতে হয় ও কীভাবে—সহজ গাইড ৫ ওয়াক্ত নামাজ কীভাবে ফরজ হলো, সহিহ ও শুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার নিয়ম সাভার-ধামরাইয়ে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার এবার নিজের যে দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেন রাশমিকা বিগ বসে কেন গিয়েছিলেন নোরা ফতেহি? ফাঁস করলেন অজানা গল্প
অন্যের ব্যক্তিগত কথায় ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ি পাতা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে অনিচ্ছায় কোনো গোপন কথা কানে এলে তা নিয়ে কৌতূহলী না হয়ে সরে যাওয়া এবং জানা তথ্য আমানত হিসেবে গোপন রাখার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম।

অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে এলে ইসলামের নির্দেশনা কী

নিজের ইচ্ছায় কারও গোপন কথায় কান দেওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি অনিচ্ছায় কোনো ব্যক্তিগত কথা শুনে ফেললেও তা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলে ইসলাম।

পাশের কক্ষ থেকে ভেসে আসা কারও ব্যক্তিগত আলাপ, অফিসের বৈঠকে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুনে ফেলা কোনো গোপন তথ্য কিংবা পারিবারিক আলোচনার কিছু অংশ হঠাৎ কানে চলে আসা—দৈনন্দিন জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন অনেকেই। সব সময় এসব কথা শোনার পেছনে মানুষের ইচ্ছা থাকে না। অনেক সময় স্থান, পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতির কারণে অন্যের ব্যক্তিগত কথাবার্তা কানে চলে আসে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিমের করণীয় কী—এ বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ কিছু নীতিমালা দিয়েছে। ইসলামে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই কারও ব্যক্তিগত আলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ি পাতা, গোপন তথ্য অনুসন্ধান করা কিংবা অনিচ্ছায় জানা তথ্য অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া—সবকিছু থেকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইচ্ছা করে আড়ি পাতা নিষিদ্ধ

কেউ গোপনে কথা বলছেন—এমনটা বুঝতে পারার পর ইচ্ছাকৃতভাবে কাছে গিয়ে কান পেতে শোনা ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَجَسَّسُوا

অর্থাৎ, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ —সুরা হুজরাত, আয়াত ১২।

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা অনুসন্ধান না করার শিক্ষা দেয়। তাই অন্যের কথোপকথন গোপনে শোনার জন্য চেষ্টা করা কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বের করার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ استَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো একদলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ —সহিহ বুখারি, ৭০৪২।

হাদিসের এই সতর্কবাণী থেকে বোঝা যায়, মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তার প্রতি সম্মান দেখানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা।

অনিচ্ছায় শুনে ফেললে কী করবেন

সব পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। পাশের ঘরে কেউ কথা বলছেন এবং দরজা-জানালা বা পরিবেশের কারণে কিছু কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে আসতে পারে। এমন অবস্থায় নিজেকে অপরাধী মনে করে অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে সচেতন হওয়া জরুরি।

সম্ভব হলে সেই স্থান থেকে সরে যাওয়া, দরজা বন্ধ করা কিংবা নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া ভালো। মূল বিষয় হলো—অনিচ্ছায় কানে আসা কথাকে ইচ্ছা করে আরও শোনার চেষ্টা না করা।

গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করুন

কখনো এমনও হতে পারে, কারও ব্যক্তিগত কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে এসেছে। কথার ধরন, পরিবেশ বা ব্যক্তির আচরণ থেকে স্পষ্ট যে বিষয়টি গোপনীয়। এমন তথ্য জানার পর সেটিকে অন্যের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ

অর্থাৎ, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং মুখ ঘুরায় (এদিক-সেদিক তাকায়), তখন তা আমানত।’ —সুনানে আবু দাউদ, ৪৮৬৮।

অর্থাৎ, কারও ব্যক্তিগত আলাপের গোপনীয়তা বুঝতে পারলে সেটিকে আমানত হিসেবে রক্ষা করা উচিত। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কথা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

কৌতূহলকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে কৌতূহল অন্যতম। কারও কথার সামান্য অংশ কানে এলে পুরো ঘটনা জানার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। ‘আসলে কী হয়েছে’, ‘কার সঙ্গে কথা বলছিল’, ‘কী নিয়ে আলোচনা করছিল’—এ ধরনের প্রশ্ন মনে আসা অস্বাভাবিক নয়।

তবে ইসলাম অপ্রয়োজনীয় কৌতূহলকে প্রশ্রয় না দিয়ে আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। সামান্য কোনো তথ্য জানার পর সেটির সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান করা, অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা কিংবা গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

জানা তথ্য দিয়ে কাউকে অপমান করা যাবে না

কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও পারিবারিক সমস্যা, ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা জীবনের কোনো গোপন বিষয় জেনে যেতে পারেন। সেই তথ্য পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে অপমান, হেয় করা কিংবা খোঁটা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত অনৈতিক।

বরং ইসলাম মানুষের দোষ-ত্রুটি আড়াল করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ —সহিহ মুসলিম, ২৬৯৯।

তাই কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা জানা হয়ে গেলে সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে তার সম্মান রক্ষা করা উচিত।

গুরুতর বিপদের আশঙ্কা থাকলে দায়িত্বশীল হতে হবে

গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ এই নয় যে, মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হলেও সবকিছু গোপন রাখতে হবে। কোনো কথোপকথন থেকে যদি কারও জীবনহানির আশঙ্কা, গুরুতর সহিংসতার পরিকল্পনা, বড় ধরনের অপরাধ বা নিরাপত্তা ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ধরনের ক্ষেত্রে গুজব ছড়ানো নয়; বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশ্বস্ত ও উপযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানানোই বিচক্ষণতার পরিচয়। বিশেষ করে কারও জীবন রক্ষার প্রয়োজন হলে নীরবতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গোপনীয়তা রক্ষা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়

ইসলামে মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে আসা অনেক সময় নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে। কিন্তু সেই কথা শোনার পর আমরা কী করছি—সেখানেই আমাদের চরিত্র, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির পরিচয় প্রকাশ পায়।

কেউ যদি অনিচ্ছায় কোনো ব্যক্তিগত কথা শুনে ফেলেন, তাহলে সেটিকে নিয়ে আগ্রহী না হয়ে সরে যাওয়া, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান না করা এবং জানা তথ্য অন্যের কাছে প্রকাশ না করাই উত্তম। একই সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা গোপন বিষয়কে কখনো উপহাস কিংবা অপমানের কারণ বানানো উচিত নয়।

অন্যের গোপন কথা রক্ষা করা মূলত একজন মানুষের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো। তাই অনিচ্ছায় কোনো কথা কানে এলে সেটিকে ছড়িয়ে না দিয়ে নীরবে সংরক্ষণ করা একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

সাভার-আশুলিয়ায় ইয়াবা-হেরোইনসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

অন্যের ব্যক্তিগত কথায় ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ি পাতা ইসলামে নিষিদ্ধ। তবে অনিচ্ছায় কোনো গোপন কথা কানে এলে তা নিয়ে কৌতূহলী না হয়ে সরে যাওয়া এবং জানা তথ্য আমানত হিসেবে গোপন রাখার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম।

অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে এলে ইসলামের নির্দেশনা কী

আপডেট সময়: ০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের ইচ্ছায় কারও গোপন কথায় কান দেওয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি অনিচ্ছায় কোনো ব্যক্তিগত কথা শুনে ফেললেও তা ছড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলে ইসলাম।

পাশের কক্ষ থেকে ভেসে আসা কারও ব্যক্তিগত আলাপ, অফিসের বৈঠকে অনিচ্ছাকৃতভাবে শুনে ফেলা কোনো গোপন তথ্য কিংবা পারিবারিক আলোচনার কিছু অংশ হঠাৎ কানে চলে আসা—দৈনন্দিন জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন অনেকেই। সব সময় এসব কথা শোনার পেছনে মানুষের ইচ্ছা থাকে না। অনেক সময় স্থান, পরিবেশ কিংবা পরিস্থিতির কারণে অন্যের ব্যক্তিগত কথাবার্তা কানে চলে আসে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে একজন মুসলিমের করণীয় কী—এ বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ কিছু নীতিমালা দিয়েছে। ইসলামে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মান ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই কারও ব্যক্তিগত আলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ি পাতা, গোপন তথ্য অনুসন্ধান করা কিংবা অনিচ্ছায় জানা তথ্য অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া—সবকিছু থেকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইচ্ছা করে আড়ি পাতা নিষিদ্ধ

কেউ গোপনে কথা বলছেন—এমনটা বুঝতে পারার পর ইচ্ছাকৃতভাবে কাছে গিয়ে কান পেতে শোনা ইসলাম সমর্থন করে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَجَسَّسُوا

অর্থাৎ, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ —সুরা হুজরাত, আয়াত ১২।

ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা অনুসন্ধান না করার শিক্ষা দেয়। তাই অন্যের কথোপকথন গোপনে শোনার জন্য চেষ্টা করা কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বের করার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ استَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো একদলের কথা কান পেতে শোনে, অথচ তারা তা অপছন্দ করে, কেয়ামতের দিন তার কানে গলিত সিসা ঢেলে দেওয়া হবে।’ —সহিহ বুখারি, ৭০৪২।

✒️ আরও পড়ুন 📖  পৃথিবীতে মানুষের আগমনের ইতিহাস: বিজ্ঞানের আলোকে এক বিস্ময়কর যাত্রা

হাদিসের এই সতর্কবাণী থেকে বোঝা যায়, মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তার প্রতি সম্মান দেখানো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা।

অনিচ্ছায় শুনে ফেললে কী করবেন

সব পরিস্থিতি মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। পাশের ঘরে কেউ কথা বলছেন এবং দরজা-জানালা বা পরিবেশের কারণে কিছু কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে চলে আসতে পারে। এমন অবস্থায় নিজেকে অপরাধী মনে করে অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং বিষয়টি বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে সচেতন হওয়া জরুরি।

সম্ভব হলে সেই স্থান থেকে সরে যাওয়া, দরজা বন্ধ করা কিংবা নিজের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া ভালো। মূল বিষয় হলো—অনিচ্ছায় কানে আসা কথাকে ইচ্ছা করে আরও শোনার চেষ্টা না করা।

গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করুন

কখনো এমনও হতে পারে, কারও ব্যক্তিগত কথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে এসেছে। কথার ধরন, পরিবেশ বা ব্যক্তির আচরণ থেকে স্পষ্ট যে বিষয়টি গোপনীয়। এমন তথ্য জানার পর সেটিকে অন্যের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ بِالْحَدِيثِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ

অর্থাৎ, ‘যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলে এবং মুখ ঘুরায় (এদিক-সেদিক তাকায়), তখন তা আমানত।’ —সুনানে আবু দাউদ, ৪৮৬৮।

অর্থাৎ, কারও ব্যক্তিগত আলাপের গোপনীয়তা বুঝতে পারলে সেটিকে আমানত হিসেবে রক্ষা করা উচিত। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কথা ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ নয়।

কৌতূহলকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে কৌতূহল অন্যতম। কারও কথার সামান্য অংশ কানে এলে পুরো ঘটনা জানার আগ্রহ তৈরি হতে পারে। ‘আসলে কী হয়েছে’, ‘কার সঙ্গে কথা বলছিল’, ‘কী নিয়ে আলোচনা করছিল’—এ ধরনের প্রশ্ন মনে আসা অস্বাভাবিক নয়।

তবে ইসলাম অপ্রয়োজনীয় কৌতূহলকে প্রশ্রয় না দিয়ে আত্মসংযমের শিক্ষা দেয়। সামান্য কোনো তথ্য জানার পর সেটির সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধান করা, অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা কিংবা গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

✒️ আরও পড়ুন 📖  কলকাতা বিমানবন্দরের গৌরীপুর জামে মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা, ১৬৩ ধারা জারি | কড়া নিরাপত্তায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

জানা তথ্য দিয়ে কাউকে অপমান করা যাবে না

কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও পারিবারিক সমস্যা, ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা জীবনের কোনো গোপন বিষয় জেনে যেতে পারেন। সেই তথ্য পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিকে অপমান, হেয় করা কিংবা খোঁটা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত অনৈতিক।

বরং ইসলাম মানুষের দোষ-ত্রুটি আড়াল করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

অর্থাৎ, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ —সহিহ মুসলিম, ২৬৯৯।

তাই কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা জানা হয়ে গেলে সেটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে তার সম্মান রক্ষা করা উচিত।

গুরুতর বিপদের আশঙ্কা থাকলে দায়িত্বশীল হতে হবে

গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ এই নয় যে, মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হলেও সবকিছু গোপন রাখতে হবে। কোনো কথোপকথন থেকে যদি কারও জীবনহানির আশঙ্কা, গুরুতর সহিংসতার পরিকল্পনা, বড় ধরনের অপরাধ বা নিরাপত্তা ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি দায়িত্বশীলভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ ধরনের ক্ষেত্রে গুজব ছড়ানো নয়; বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশ্বস্ত ও উপযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে জানানোই বিচক্ষণতার পরিচয়। বিশেষ করে কারও জীবন রক্ষার প্রয়োজন হলে নীরবতার পরিবর্তে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গোপনীয়তা রক্ষা শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়

ইসলামে মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের ব্যক্তিগত কথা কানে আসা অনেক সময় নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারে। কিন্তু সেই কথা শোনার পর আমরা কী করছি—সেখানেই আমাদের চরিত্র, নৈতিকতা ও আল্লাহভীতির পরিচয় প্রকাশ পায়।

কেউ যদি অনিচ্ছায় কোনো ব্যক্তিগত কথা শুনে ফেলেন, তাহলে সেটিকে নিয়ে আগ্রহী না হয়ে সরে যাওয়া, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান না করা এবং জানা তথ্য অন্যের কাছে প্রকাশ না করাই উত্তম। একই সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা গোপন বিষয়কে কখনো উপহাস কিংবা অপমানের কারণ বানানো উচিত নয়।

✒️ আরও পড়ুন 📖  আল্লাহর ক্ষমা লাভের অন্যতম আমল ইস্তিগফার: কোরআন-হাদিসে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব

অন্যের গোপন কথা রক্ষা করা মূলত একজন মানুষের সম্মান, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো। তাই অনিচ্ছায় কোনো কথা কানে এলে সেটিকে ছড়িয়ে না দিয়ে নীরবে সংরক্ষণ করা একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল মুসলিমের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।