জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে সাভারে আয়োজিত সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন। ঘটনার পর সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন জানান, সমাবেশে দুর্বৃত্তদের নিক্ষেপ করা ককটেল বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশে বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন এবং কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত আকারে শেষ করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, বিস্ফোরণের সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য রাখছিলেন। সে সময় সমাবেশের মঞ্চে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ আহত হননি।
ঘটনার পরপরই এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থল থেকে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিস্ফোরণের উৎস, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন স্থান অতিক্রম করে কর্মসূচি সাভারে এসে শেষ হয়।
পদযাত্রা ও সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশীদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আলী নাসের খান, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশে নেতারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তবে কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো আয়োজনের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







