ঢাকার সাভারে অবস্থিত ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে সামার ট্রাইমেস্টার-২০২৬-এর নবীন বরণ অনুষ্ঠান। নতুন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস মুখর হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সাফায়েত মোহাম্মদ রাজু।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি পরিবারের সদস্য হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে একটি পরিচিতিমূলক উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিক মূল্যবোধ, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি, গবেষণামনস্কতা এবং বাস্তব দক্ষতায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশের একজন দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি নতুন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান তাঁর বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি অর্জনের স্থান নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের অন্যতম ক্ষেত্র। তিনি শিক্ষার্থীদের সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থেকে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার সাফায়েত মোহাম্মদ রাজু নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষার্থী সহায়তা সেবা, লাইব্রেরি সুবিধা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন কার্যক্রম, বিভিন্ন ছাত্র ক্লাবের কার্যক্রম এবং ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আধুনিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। এতে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন সময় উপভোগ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. শামসুল হুদা, রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানটি নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা, তেমনি ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও প্রেরণা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, নবীন শিক্ষার্থীরা জ্ঞান, নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 







