নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং ওয়ার্ডের (রসুলবাগ—সাবেক মাজিপাড়া) স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য মাদকসহ আটক করা আসামিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছেন।
গত বুধবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) রসুলবাগ এলাকার সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, “সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই রাশেদ, গৌরাঙ্গ বাবু, কামরুল ও নূরসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়মিত টহলের সময় মাদকসহ কিছু ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে অবৈধভাবে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন।”
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “পুলিশ আসামি ধরার পর গাড়িতে বা সিএনজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে, তারপর নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে টাকা আনিয়ে আসামিকে ছেড়ে দেয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় শুধু মাদকসহ আটক ব্যক্তিরাই নয়—ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরাও ছাড় পাচ্ছেন এই অসাধু পুলিশ সদস্যদের হাত ঘুরে। অর্থ দিলেই মিলে যাচ্ছে মুক্তি।
আরও জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর কিছুদিন পুলিশ ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলেও এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষায়—“যেখানে সরকার মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছে, সেখানে পুলিশের ঘুষের বিনিময়ে আসামি ছাড়ার কারণে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এতে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।”
এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তি এবং ওসি মোঃ শাহিনুর আলম ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—“এইসব অপকর্ম কি ওসি মোঃ শাহিনুর আলমের নির্দেশেই চলছে?”
অভিযোগ রয়েছে, ওসি শাহিনুর আলম থানার কিছু তথাকথিত সোর্স আলামিন ও সাগরসহ অসাধু পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জসিম ও সালামকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দোসর টাইগার ফারুকের ভাই জসিম ও সালাম, মিজমিজী পাগলা বাড়ি, কেলান পাড়, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল চান টাওয়ার এলাকা সহ আশপাশে প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
এলাকাবাসী প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 






