ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নরসিংদীতে উৎপত্তি হওয়া এই কম্পনটির ঢাকায় রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে। কম্পনের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা—পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় একটি আটতলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিহত হন তিনজন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিসের জোন-১ এর কমান্ডার মো. এনামুল হক জানান, ভূমিকম্পের পরপরই সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার স্টেশন থেকে একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, “আমরা এসে দেখি ভবনের ছাদের কার্নিশের রেলিং ভেঙে নিচে পড়েছে এবং পথচারীদের ওপর আঘাত করেছে। স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। আমরা পুরো এলাকা সার্চ করে নিশ্চিত হয়েছি—আর কেউ আটকা নেই। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ভাঙা রেলিং ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পুরান ঢাকার এই অঞ্চলের বেশিরভাগ ভবনের রেলিং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সঠিকভাবে পিলারের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় যে কোনো সময় এসব ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি স্থানীয়দের রেলিং পরীক্ষা ও তাৎক্ষণিক মেরামতের আহ্বান জানান।
ঘটনাস্থলে থাকা বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন বলেন, “এই এলাকার অধিকাংশ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্প হতেই রেলিং ধসে পড়ে তিনজনকে আহত হতে দেখি। কিছুক্ষণের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
স্থানীয়দের মতে, আরমানিটোলা ও বংশাল এলাকার অনেক পুরোনো ভবনে রেলিং, কার্নিশ ও দেয়ালের গঠন বহুদিন ধরে ঢিলা হয়ে আছে। ভূমিকম্পে এসব অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। আজকের ঘটনা সেই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 





