যশোরের বেনাপোল সীমান্তের বড়আঁচড়া গ্রামে একটি বাঁশবাগান থেকে নবজাতক এক পুত্র সন্তান উদ্ধার করেছে স্থানীয় গ্রামবাসী। বর্তমানে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে এবং উদ্ধারকারী নারীর হেফাজতে আছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) ভোরে বড়আঁচড়া গ্রামের ২২ নাম্বার গোডাউনের পিছনের একটি বাঁশবাগান থেকে নবজাতকটি উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরজাহান বেগম, যিনি ছিদ্দিকের স্ত্রী।
নুরজাহান বেগম জানান, গভীর রাতে তিনি তার বাড়ির পাশে বাঁশবাগান থেকে বিড়ালের মতো শব্দ শুনতে পান। ভোরে বিষয়টি দেখতে গিয়ে দেখেন—একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী রক্তাক্ত অবস্থায় সদ্য প্রসূত শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের সহায়তায় নবজাতকটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
“আল্লাহর রহমতে বাচ্চাটা বেঁচে গেছে। আমি চাই ওকে নিজের সন্তানের মতো মানুষ করতে,” — বলেন উদ্ধারকারী নুরজাহান বেগম।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাজীব হাসান। তিনি নবজাতকের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও উদ্ধারকারী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
ইউএনও কাজী নাজীব হাসান বলেন, “নবজাতকটি বর্তমানে নিরাপদে আছে। উদ্ধারকারী পরিবার সন্তানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি শিশুটির মাকে খোঁজার চেষ্টা চলছে।”
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মানিক কুমার সাহা জানান, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি থানাকে অবগত করেছে উদ্ধারকারী পরিবার।
এদিকে নবজাতক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে উৎসাহ ও মানবিকতার জোয়ার দেখা দিয়েছে। শিশুটিকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামবাসী। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর এমন আচরণে অনেকেই দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শহিদুল ইসলাম, শার্শা প্রতিনিধি 





