রাজধানীর বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে মানব পাচার ও যৌন শোষণের অপরাধে জড়িত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসময় ১২ জন ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ৭ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ বিকেল সাড়ে ৩টায় সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট ‘রিলাক জোন বিউটি পার্লার অ্যান্ড সেলুন’ নামে পরিচালিত স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
অভিযান ও মামলা
ঘটনার পরদিন, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সিআইডির দায়ের করা মামলাটি বনানী থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ৬/৭/৮/১১/১২ ধারায় রুজু করা হয়। আইনের ধারা ৩ (১)(গ) অনুযায়ী— প্রতারণা, প্রলোভন বা জোরপূর্বক যৌন শোষণ, শ্রম শোষণ বা যে কোনো ধরনের নিপীড়নের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি সংগ্রহ, স্থানান্তর, নির্বাসন, লুকিয়ে রাখা বা আশ্রয় প্রদান মানব পাচারের অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেপ্তারকৃতরা
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত ৬ সদস্য হলো—মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭) – সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, মো. রাকিবুল ইসলাম (২৫) – ধুমকি, পটুয়াখালী, গোলাম মোর্শেদ ওরফে সৌমিক (২৬) – ধাপ, রংপুর, মো. রাব্বি ইব্রাহীম (২৩) – হাতিয়া, নোয়াখালী, জহিরুল (৩৩) – মোহাম্মদপুর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, শ্যামল কুমার (৪৭) – ঘিওর, মানিকগঞ্জ, এ ছাড়া মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে স্পা সেন্টারের মালিক মো. মোবারক আলী ওরফে সবুজ (৩৬) এবং ভবন মালিক মো. দেলোয়ার হোসেনকে। তারা বর্তমানে পলাতক।
কীভাবে মানব পাচারের ফাঁদে ফেলা হতো
সিআইডি জানায়, বনানীর একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ‘স্পা সেন্টার’-এর আড়ালে গোপনে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। উদ্ধারকৃত নারীরা জানান—বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে, উচ্চ বেতনের চাকরি, বিউটি পার্লারে নিরাপদ কাজ, ফ্রি আবাসন, নিরাপদ কর্মসংস্থান — এসব প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় আনা হতো। পরে ভয়ভীতি, চাপ, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্পা সেন্টারের আড়ালে যৌন শোষণের কাজে বাধ্য করা হতো। ভবন মালিক দেলোয়ার হোসেন ফ্ল্যাটটি অবৈধ কাজে ব্যবহৃত হবে জেনেই ভাড়া দিয়েছেন বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়।
সতর্কতা ও চলমান তদন্ত
সিআইডি জানায়, মানব পাচার চক্র সাধারণত দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র নারীদের টার্গেট করে। তাই এ ধরনের প্রতারণামূলক ফাঁদ থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানব পাচার ইউনিট মামলার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে— অপরাধের পূর্ণ চক্র উদঘাটন, পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কার্যক্রম চলমান।

অনলাইন ডেস্ক 





