টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির সহকারী ম্যানেজার অর্ঘ্যকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টালিপাড়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার হাওড়ার ষষ্ঠীতলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত অর্ঘ্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর অনেকেই অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির প্রতিক্রিয়া জানতে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরব না থেকে ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে শ্রাবন্তী জানান, ২০২৪ সাল থেকে অর্ঘ্যের সঙ্গে তার পরিচয়। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন কাজের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করত, আর সেই সূত্রেই অর্ঘ্য তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শ্রাবন্তী তার পোস্টে লিখেছেন, “২০২৪ সাল থেকে অর্ঘ্যের সঙ্গে আমার পরিচয়। ট্যালেন্টওয়ালা নামের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা আমার ইভেন্ট ও দৈনন্দিন সূচি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল। সম্প্রতি জানতে পারি, এই ব্যক্তি একটি অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি আমাকে অত্যন্ত অস্বস্তিতে ফেলেছে। তার ব্যক্তিগত জীবন বা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে তার সঙ্গে কোনো ধরনের পেশাগত সম্পর্ক রাখতে চাই না। বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেও জানিয়েছি।”
অভিনেত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনাটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অর্ঘ্য যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখানেই কর্মরত ছিলেন অভিযোগকারী নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ এপ্রিল একটি প্রয়োজনীয় কাজে অর্ঘ্যের বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, ১২ জুন, ভুক্তভোগী নারী হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রোববার অভিযুক্ত অর্ঘ্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পরদিন তাকে হাওড়া আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টালিউড অঙ্গনেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিনোদন জগতের বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিনোদন ডেস্ক 








