রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা পেশাদার ডাকাত দলের সরদারসহ মোট ৯ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নোহা মাইক্রোবাস, ডিবি পুলিশের পোশাক, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল, ইলেকট্রিক শক মেশিন, ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন-এর নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই সাফল্য আসে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল মুত্তালিব এবং ডিবির একটি চৌকস দল।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ রাত ৯টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানাধীন নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে জয় রেস্তোরাঁর পার্কিং মাঠে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা পেশাদার ডাকাত দলের ৯ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. শামীম রেজা (৩০), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০), মো. রাশেদ (৩৮), পলাশ শেখ ওরফে আপন ওরফে আফজাল (৩৮), মো. কামাল হোসেন (৪৫), মো. সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহ (৪২), মো. কামরুল হোসেন (৫৪), মো. মনিরুল ইসলাম (৪০) এবং মো. রাসেল (৩৫)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করে সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে একটি নীল রঙের স্কয়ার নোহা গাড়ি, ৩টি “ডিবি” লেখা জ্যাকেট, ১টি হ্যান্ডকাফ, ২টি খেলনা পিস্তল, ২টি ইলেকট্রিক শক মেশিন, ৩টি স্টিলের ধারালো সুইচ গিয়ার এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি ও র্যাব সদস্য পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করত।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দলের অন্যতম সদস্য শামীম রেজার বিরুদ্ধে ২টি ডাকাতি মামলা, জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি মামলা, রাশেদের বিরুদ্ধে ৪টি ডাকাতি ও ৩টি অন্যান্যসহ মোট ৭টি মামলা, পলাশ শেখের বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি ও ১টি অন্যান্যসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
এছাড়া কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা, সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, যার মধ্যে মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধেও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 





