অবশেষে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে আটক দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে দুদকের একটি দল তাকে আটক করে। দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঘুষের ঘটনায় শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটক শামীমা আক্তার বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৬ নং শুল্কায়ন গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি যশোর কোতয়ালি থানার নাজির শংকরপুর এলাকার শহীদুল ইসলামের মেয়ে। অন্যদিকে, তার সহযোগী হাসিবুর রহমান বেনাপোল পোর্ট থানার বেনাপোল গ্রামের নাজমুল হোসেনের ছেলে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে কাস্টমস হাউসে অভিযান চালিয়ে দুদক কর্মকর্তারা এক ব্যক্তিকে ঘুষের ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকাসহ আটক করেন। ওই ব্যক্তি হাসিবুর রহমান, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘এনজিও সদস্য’ নামে পরিচিত। তিনি রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের ঘুষের টাকা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন বলে দুদক কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর রহমান জানান, টাকাগুলো শামীমা আক্তারের জন্য আনছিলেন। পরে দুদক কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে শামীমা আক্তারের কক্ষে গেলে, শামীমা আক্তারও টাকার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের সামনে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক আল আমীন জানান, জব্দ করা টাকার নম্বর মিলিয়ে তালিকা তৈরিতে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত সময় লাগে। এরপর দুদক কর্মকর্তারা শামীমা আক্তারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে কমিশনারের জিম্মায় রেখে বেরিয়ে আসেন।
তবে, কাস্টম হাউসের ফটকে বের হওয়ার সময় স্থানীয়রা দুদক কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে রেখে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানায়। প্রায় আধঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুদক কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।
দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দীন বলেন, “রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার ও তার সহযোগী হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত উভয়কে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। জব্দ করা টাকা আদালতের অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শহিদুল ইসলাম, শার্শা প্রতিনিধি 





