ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
একই মণ্ডপে তিন সহোদরাকে বিয়ে করলেন এক যুবক। পরিবার, স্থানীয় রীতি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিন বোনের এক বর, আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় এক যুবকের সঙ্গে আপন তিন বোনের বিয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৭ জুলাই জেলার হাসানপুর এলাকার ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ নামের তিন বোন স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে বিকাশ নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের সাজে তিন বোন একসঙ্গে বরের পাশে বসে রয়েছেন। পরে বিকাশ তাঁদের প্রত্যেকের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাকে ঘুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি না থাকলেও একজন পুরোহিতের মাধ্যমে হিন্দু রীতি অনুযায়ী সব ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন রিল ও ভিডিও তৈরি করতেন। সেই কাজের চিত্রগ্রাহক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিকাশ। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়।

তিন বোনের ভাষ্য, শৈশব থেকেই তাঁরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। বিয়ের পর আলাদা সংসারে চলে যাওয়ার চিন্তা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা একপর্যায়ে চরম হতাশায় ভুগতে থাকেন এবং আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে দাবি করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনজনই একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তাঁদের আলাদা হতে না হয়।

অন্যদিকে বর বিকাশ জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁদের মধ্যে বিশ্বাস ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বোনের একসঙ্গে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং তাঁদের আবেগকে সম্মান জানিয়েই তিনি সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই বিয়েতে রাজি হন।

তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে একজন স্বামী বা স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় বা একাধিক বিয়ে আইনত বৈধ নয়। ফলে বিকাশের সঙ্গে তিন বোনের এই বিয়ে আইনগতভাবে স্বীকৃতি পাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আইনের আলোকে এ ধরনের বিয়ের বৈধতা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

সমালোচনার মুখে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা হিন্দু পুরাণের রাজা দশরথের তিন স্ত্রীর উদাহরণ তুলে ধরে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ইতিহাস ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই এ ধরনের উদাহরণ দিয়ে বর্তমান আইনি বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মতির বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে প্রচলিত আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন।

তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বিয়েটি আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনগত বৈধতা এবং সামাজিক বাস্তবতাও এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

একই মণ্ডপে তিন সহোদরাকে বিয়ে করলেন এক যুবক। পরিবার, স্থানীয় রীতি ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিন বোনের এক বর, আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময়: ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলায় এক যুবকের সঙ্গে আপন তিন বোনের বিয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৭ জুলাই জেলার হাসানপুর এলাকার ধৌরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরোজ, সাবিত্রী ও সন্তোষ নামের তিন বোন স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে বিকাশ নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বিয়ের সাজে তিন বোন একসঙ্গে বরের পাশে বসে রয়েছেন। পরে বিকাশ তাঁদের প্রত্যেকের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন এবং অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাকে ঘুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি না থাকলেও একজন পুরোহিতের মাধ্যমে হিন্দু রীতি অনুযায়ী সব ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য বিভিন্ন রিল ও ভিডিও তৈরি করতেন। সেই কাজের চিত্রগ্রাহক হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিকাশ। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়।

তিন বোনের ভাষ্য, শৈশব থেকেই তাঁরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন। বিয়ের পর আলাদা সংসারে চলে যাওয়ার চিন্তা তাঁদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তাঁরা একপর্যায়ে চরম হতাশায় ভুগতে থাকেন এবং আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন বলে দাবি করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনজনই একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তাঁদের আলাদা হতে না হয়।

অন্যদিকে বর বিকাশ জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁদের মধ্যে বিশ্বাস ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন বোনের একসঙ্গে থাকার প্রবল ইচ্ছা এবং তাঁদের আবেগকে সম্মান জানিয়েই তিনি সম্পূর্ণ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই বিয়েতে রাজি হন।

✒️ আরও পড়ুন 📖  কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে অবতরণের সময় উড়োজাহাজে আগুন

তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে একজন স্বামী বা স্ত্রীর জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় বা একাধিক বিয়ে আইনত বৈধ নয়। ফলে বিকাশের সঙ্গে তিন বোনের এই বিয়ে আইনগতভাবে স্বীকৃতি পাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আইনের আলোকে এ ধরনের বিয়ের বৈধতা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

সমালোচনার মুখে তিন বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা হিন্দু পুরাণের রাজা দশরথের তিন স্ত্রীর উদাহরণ তুলে ধরে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ইতিহাস ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক কাঠামোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাই এ ধরনের উদাহরণ দিয়ে বর্তমান আইনি বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সম্মতির বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে প্রচলিত আইন ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সমালোচনা করছেন।

তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে বিয়েটি আইনগতভাবে নিবন্ধিত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনগত বৈধতা এবং সামাজিক বাস্তবতাও এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।