ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
দুই মাসে ৬০৯টি অভিযান, জব্দ ৫ টনের বেশি জাটকা—ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

চাঁদপুরে জাটকা ধরায় ২০৯ জেলের কারাদণ্ড, জরিমানা প্রায় ৪.৭ লাখ টাকা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরার দায়ে ২০৯ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স মোট ৬০৯টি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব আদালত পরিচালনা করেন মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

দুই মাসব্যাপী অভিযানে জব্দ করা হয় ৫.০৩৫ মেট্রিক টন জাটকা এবং ০.৭৪২ মেট্রিক টন অন্যান্য প্রজাতির মাছ। এছাড়া ইলিশ ধরার জাল হিসেবে ব্যবহৃত ০.০২০ লাখ মিটার জাল, ১১.৭৭৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ০.৩২৮ লাখ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে জেলেদের বিরুদ্ধে মোট ২৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় জব্দ করা একটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে ২৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত জাতীয় লক্ষ্য—৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন—অর্জনে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যারা নিষেধাজ্ঞা মেনে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকছেন, তাদের জন্যও এটি দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে।

সর্বাধিক পঠিত

অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী, প্রথম দিনেই আলোচনায় থালাপতি বিজয়

দুই মাসে ৬০৯টি অভিযান, জব্দ ৫ টনের বেশি জাটকা—ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

চাঁদপুরে জাটকা ধরায় ২০৯ জেলের কারাদণ্ড, জরিমানা প্রায় ৪.৭ লাখ টাকা

আপডেট সময়: ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরার দায়ে ২০৯ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর প্রায় ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স মোট ৬০৯টি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এসব আদালত পরিচালনা করেন মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

দুই মাসব্যাপী অভিযানে জব্দ করা হয় ৫.০৩৫ মেট্রিক টন জাটকা এবং ০.৭৪২ মেট্রিক টন অন্যান্য প্রজাতির মাছ। এছাড়া ইলিশ ধরার জাল হিসেবে ব্যবহৃত ০.০২০ লাখ মিটার জাল, ১১.৭৭৮ লাখ মিটার কারেন্ট জাল এবং ০.৩২৮ লাখ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে জেলেদের বিরুদ্ধে মোট ২৩৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলায় জব্দ করা একটি নৌকা নিলামে বিক্রি করে ২৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। জব্দকৃত জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের নির্ধারিত জাতীয় লক্ষ্য—৬ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন—অর্জনে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি যারা নিষেধাজ্ঞা মেনে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকছেন, তাদের জন্যও এটি দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে।