কেরানীগঞ্জ উপজেলার কলাতিয়া বাজার এলাকায় অবৈধভাবে খোলা (লুজ) জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্পের নিয়মিত টহল চলাকালে এ অবৈধ কার্যক্রম শনাক্ত হলে বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালিত হয়।
গত ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কলাতিয়া বাজার এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে তিনটি দোকান থেকে মোট ১ হাজার ২৬৩ লিটার খোলা অকটেন উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যবসায়ীকে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের দায়ে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত টহলের সময় সেনাসদস্যরা কলাতিয়া বাজারের কয়েকটি দোকানে অনুমোদনহীনভাবে খোলা অকটেন মজুত ও বিক্রির বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে কেরানীগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে রাকিব অটো থেকে সর্বাধিক ১ হাজার লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক কবির হোসেন (৪৫)–কে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং উদ্ধারকৃত অকটেন চার দিনের মধ্যে অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া হামিম স্টোর থেকে ১০৩ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হুমায়ুন কবির (৪৭)–কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দুই দিনের মধ্যে বৈধভাবে বিক্রয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরদিকে হৃদয় স্টোর থেকে ১৬০ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলতাফ হোসেন (৪৮)–কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং একইভাবে দুই দিনের মধ্যে বিক্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। এ সময় হেমায়েতপুর আর্মি ক্যাম্প সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে। বেসামরিক প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, জনস্বার্থ রক্ষা ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে অবৈধ জ্বালানি ব্যবসার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 





