আশুলিয়ায় একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার চক্রের ৮ সদস্য ও তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার করিম সুপার মার্কেটের পঞ্চম তলায় অবস্থিত হোটেল ইউনিক আবাসিক-এ অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে শনিবার গভীর রাতে আশুলিয়ার কুরগাঁও নতুনপাড়া ১ নং গলিতে অভিযান চালিয়ে ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে ৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. মাহমুদুল হাসান।
গ্রেফতারকৃত মানব পাচার চক্রের সদস্যরা: মো. মনিরুজ্জামান (৫৩) — জামালপুর জেলা, হোটেল ইউনিক আবাসিকের ম্যানেজার। মো. রাব্বি হাসান (১৮) — গাইবান্ধা জেলা, হোটেলের কর্মচারী। হৃদয় (২৭) — ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকা। সাইদুল ইসলাম (২৪) — সাভারের আমিনবাজার এলাকা, স্থায়ী ঠিকানা মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। মো. সামছুল আলম (৪২) — বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ এলাকা। সোনিয়া (২২) — বরিশালের মুলাদী থানার হিজলা গ্রাম। শিল্পী আক্তার (২৩) — নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলা। অরিন আক্তার সীমা — দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীরা: মো. খোকন মিয়া (৩৭) — আশুলিয়ার কুরগাঁও পুরাতনপাড়া। মো. ইব্রাহীম হোসেন তমাল (৩২) — কুরগাঁও নতুনপাড়া এলাকা। মো. রাকিব হোসেন রিদয় (২৭) — জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর এলাকা।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার, দেহ ব্যবসা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও দেহ ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজে লিপ্ত ছিল। অন্যদিকে মাদক কেনাবেচার সময় হাতে-নাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক 





