ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ
ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ধামরাইয়ে ৯ মামলার আসামি ছিনতাইকারী গ্রেফতার সাভারের ভাঙচুর মামলায় জামিনে মুক্ত ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম জুয়েল ঢাকা জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতার ৪ ব্যবসায়ী ধামরাইয়ে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা নিয়ম না মানায় অপপ্রচার: সাভার সাব-রেজিস্ট্রারের অভিযোগ গাঁজাসহ আশুলিয়ায় ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সারা দেশে শুরু প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫, প্রথম দিনে বাংলা আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে বিদেশি অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
অরক্ষিত সিদ্ধিরগঞ্জ সওজ অফিস | সরকারি বাসায় অপরাধীদের দখল

অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ অফিস

বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের দৌরাত্ম্যে সরকারি কলোনী রূপ নিয়েছে অপরাধীদের আস্তানায়

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাংরোডস্থ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অফিসটি এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কারণ অফিস প্রাঙ্গণে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক কলোনীর বাসাগুলো বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে— আর এই ভাড়াটিয়াদের অধিকাংশই অপরাধচক্র, মাদক ব্যবসা ও চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট কলোনীর অভ্যন্তরে ঘটে এক হত্যাকাণ্ড— যা ফাঁস করে দেয় বহিরাগত দখল ও অপরাধের চক্র। সেদিন সওজ বিভাগের ভিটিকান্দি সড়ক উপবিভাগের উচ্চমান সহকারী তাহের সরকারের বরাদ্দকৃত বাসায় সাবিনা আক্তার লাকিকে (৩৬) পরকীয়ার জেরে হত্যা করে পালিয়ে যান নীরব ওরফে নাজিম (৪২)। পরে র‍্যাব-১১ সদস্যরা ১৬ আগস্ট ঝালকাঠির নলছিটি থানার তিমিরকাঠি এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেফতার করে।

লাকীর পরিবার ওই সরকারি বাসায় অফিসের অনুমতি ছাড়া ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। এই হত্যার ঘটনায়ই প্রথম প্রকাশ্যে আসে— সরকারি বাসা ভাড়া দিয়ে বহিরাগতদের বসবাসের সত্য।

অফিসের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, কলোনীর অধিকাংশ বাসাই মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ও অবৈধ কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় অপরাধীরা মহাসড়কে অপরাধ করে দ্রুত সওজ অফিসে আশ্রয় নেয়, ফলে পুলিশ বা সাধারণ মানুষ তাদের শনাক্ত করতে পারে না।

তদন্তে জানা যায়, ৩৪টি আবাসিক ঘরের বেশিরভাগই এখন আর কর্মরত কর্মচারীদের দখলে নেই। অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাসা ছাড়েননি, বরং বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা নিজেদের পকেটে পুরছেন। কেউ কেউ আবার “বাসা বিক্রির” নামে টাকা নিচ্ছেন, যা সরকারি নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক কমিটির সভাপতি ড্রাইভার মো. মফিজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অফিস সহকারী মো. জামায়াত উল্লাহ শ্রমিকলীগের প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছর ধরে বাসাগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল ও ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করছেন। এছাড়া ২৮-বি বাসার বরাদ্দ বাতিলের পর জামায়াত উল্লাহ সেটি ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন মাস্টাররোল কর্মচারী আল-আমিনের কাছে।

ড্রাইভার শহীদ, নূরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন অবৈধভাবে ৪টি বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, যার বিল দিচ্ছে সওজ বিভাগ নিজেই।

এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমকে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন।
তবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ্ মজুমদার বলেন, “বহিরাগতদের বসবাসের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের পর আমরা জানতে পারি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের উচ্ছেদ করা হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

অরক্ষিত সিদ্ধিরগঞ্জ সওজ অফিস | সরকারি বাসায় অপরাধীদের দখল

অরক্ষিত হয়ে পড়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ অফিস

আপডেট সময়: ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

বহিরাগত ভাড়াটিয়াদের দৌরাত্ম্যে সরকারি কলোনী রূপ নিয়েছে অপরাধীদের আস্তানায়

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ চিটাগাংরোডস্থ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অফিসটি এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কারণ অফিস প্রাঙ্গণে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক কলোনীর বাসাগুলো বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে— আর এই ভাড়াটিয়াদের অধিকাংশই অপরাধচক্র, মাদক ব্যবসা ও চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

চলতি বছরের ১৩ আগস্ট কলোনীর অভ্যন্তরে ঘটে এক হত্যাকাণ্ড— যা ফাঁস করে দেয় বহিরাগত দখল ও অপরাধের চক্র। সেদিন সওজ বিভাগের ভিটিকান্দি সড়ক উপবিভাগের উচ্চমান সহকারী তাহের সরকারের বরাদ্দকৃত বাসায় সাবিনা আক্তার লাকিকে (৩৬) পরকীয়ার জেরে হত্যা করে পালিয়ে যান নীরব ওরফে নাজিম (৪২)। পরে র‍্যাব-১১ সদস্যরা ১৬ আগস্ট ঝালকাঠির নলছিটি থানার তিমিরকাঠি এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেফতার করে।

লাকীর পরিবার ওই সরকারি বাসায় অফিসের অনুমতি ছাড়া ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। এই হত্যার ঘটনায়ই প্রথম প্রকাশ্যে আসে— সরকারি বাসা ভাড়া দিয়ে বহিরাগতদের বসবাসের সত্য।

অফিসের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, কলোনীর অধিকাংশ বাসাই মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই ও অবৈধ কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় অপরাধীরা মহাসড়কে অপরাধ করে দ্রুত সওজ অফিসে আশ্রয় নেয়, ফলে পুলিশ বা সাধারণ মানুষ তাদের শনাক্ত করতে পারে না।

তদন্তে জানা যায়, ৩৪টি আবাসিক ঘরের বেশিরভাগই এখন আর কর্মরত কর্মচারীদের দখলে নেই। অবসরে যাওয়া অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাসা ছাড়েননি, বরং বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে ভাড়ার টাকা নিজেদের পকেটে পুরছেন। কেউ কেউ আবার “বাসা বিক্রির” নামে টাকা নিচ্ছেন, যা সরকারি নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক কমিটির সভাপতি ড্রাইভার মো. মফিজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অফিস সহকারী মো. জামায়াত উল্লাহ শ্রমিকলীগের প্রভাব খাটিয়ে ১৫ বছর ধরে বাসাগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল ও ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করছেন। এছাড়া ২৮-বি বাসার বরাদ্দ বাতিলের পর জামায়াত উল্লাহ সেটি ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেন মাস্টাররোল কর্মচারী আল-আমিনের কাছে।

ড্রাইভার শহীদ, নূরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন অবৈধভাবে ৪টি বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন, যার বিল দিচ্ছে সওজ বিভাগ নিজেই।

এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিমকে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন।
তবে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্যাহ্ মজুমদার বলেন, “বহিরাগতদের বসবাসের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের পর আমরা জানতে পারি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের উচ্ছেদ করা হবে।”