মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে ইয়াবা বিক্রির নগদ ৫ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভিনের নির্দেশনায় পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুল ইসলাম। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভার মডেল থানার রাজফুলবাড়িয়া কুটিবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিরস্ত্র) মো. জুয়েল মিয়া। এ সময় সেলিনা (৪০) নামে এক পেশাদার নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন ৫ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। একই সঙ্গে ইয়াবা বিক্রির ৫ হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সেলিনার বাড়ি সাভার মডেল থানার রাজফুলবাড়িয়া কুটিবাড়ি এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি সক্রিয় মাদক চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
অপরদিকে, ২৬ জুলাই রাত ১২টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানার পলাশবাড়ি এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করেন ডিবি (উত্তর)-এর এসআই (নিরস্ত্র) মো. আরিফুল ইসলাম। অভিযানে মো. কাওসার ইসলাম (২৮) ও মো. সাদ্দাম হোসেন পারভেজ (৩৫) নামে আরও দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকেও ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক ওজন ৫ গ্রাম এবং বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কাওসার ইসলামের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া সাদ্দাম হোসেন পারভেজের বিরুদ্ধেও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার তিন আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ খবর ডেস্ক 






