ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পরিবেশ দূষণ ও কৃষিজমির ক্ষতির অভিযোগে হারুরিয়া এলাকায় অভিযান; স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা

“সাভারে ৪ অবৈধ ফার্নেস অয়েল কারখানা উচ্ছেদ”

ঢাকার সাভারে অবৈধভাবে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনকারী চারটি কারখানা উচ্ছেদ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে আসা এসব কারখানা সোমবার ৮ জুন দুপুরে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের হারুরিয়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হারুরিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন যানবাহনের পরিত্যক্ত টায়ার সংগ্রহ করে তা পুড়িয়ে অবৈধভাবে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করে আসছিল। উৎপাদিত তেল বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও বাজারে বিক্রি করা হতো। এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্য পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষ নানা ধরনের শ্বাসকষ্টসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিলেন। এছাড়া বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের প্রভাবে এলাকার ফসলি জমির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চারটি অবৈধ কারখানার স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং কারখানাগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানাগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টায়ার প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামো এবং উৎপাদন কার্যক্রমের আলামতও পাওয়া যায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ দূষণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সর্বাধিক পঠিত

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবির পৃথক অভিযান: ১৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

পরিবেশ দূষণ ও কৃষিজমির ক্ষতির অভিযোগে হারুরিয়া এলাকায় অভিযান; স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা

“সাভারে ৪ অবৈধ ফার্নেস অয়েল কারখানা উচ্ছেদ”

আপডেট সময়: ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ঢাকার সাভারে অবৈধভাবে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনকারী চারটি কারখানা উচ্ছেদ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে আসা এসব কারখানা সোমবার ৮ জুন দুপুরে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের হারুরিয়া এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, হারুরিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন যানবাহনের পরিত্যক্ত টায়ার সংগ্রহ করে তা পুড়িয়ে অবৈধভাবে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন করে আসছিল। উৎপাদিত তেল বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও বাজারে বিক্রি করা হতো। এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্য পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কারখানাগুলো থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মানুষ নানা ধরনের শ্বাসকষ্টসহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছিলেন। এছাড়া বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের প্রভাবে এলাকার ফসলি জমির উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে চারটি অবৈধ কারখানার স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং কারখানাগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে কারখানাগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টায়ার প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামো এবং উৎপাদন কার্যক্রমের আলামতও পাওয়া যায়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ দূষণকারী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

✒️ আরও পড়ুন 📖  সাভারে বিএনপির পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন

স্থানীয় সচেতন মহল পরিবেশ অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অবৈধ পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।