সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সম্ভাব্য উপনির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ওই আসনসহ যেকোনো উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক সিদ্ধান্তে জানায়, দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারার আওতায় নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়, তাহলে সাতক্ষীরা-৪ আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। যদিও বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
এমন সম্ভাবনার মধ্যেই এক অডিওবার্তায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন হিরো আলম। তিনি বলেন, তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সংসদ সদস্য হওয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
হিরো আলম বলেন, “আমার অনেক দিনের স্বপ্ন, এমপি হব। আমি চেয়েছিলাম, যদি কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আমি দাঁড়াব। গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। এখন যেখানেই উপনির্বাচন হবে, সেখানেই আমি দাঁড়াব। দেখি সুষ্ঠু নির্বাচনেও আমাকে মারে কিনা। আমার ওপর জামায়াত অ্যাটাক করে, বিএনপি অ্যাটাক করে নাকি এনসিপি অ্যাটাক করে। কয়েকবার নির্বাচনে আমি লড়েছি, পাশও করেছি, এবার উপনির্বাচনে দেখি জনগণ কী করে।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে হিরো আলমের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মন্তব্য করছেন।
এর আগে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন হিরো আলম। নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের সময় তার ওপর হামলার অভিযোগও উঠে। পরে কয়েকটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ দাবি করে তিনি তা বর্জনের ঘোষণা দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে ‘আমজনতা’ দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।
বগুড়ার একজন ক্যাবল অপারেটর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা আশরাফুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মুখোমুখি হলেও সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসেননি।
এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হিরো আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সম্ভাব্য উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিনোদন ডেস্ক 









